নিউজ ডেস্ক:: রাজধানী ঢাকাকে আজ কেউ আর নিরাপদ নগরী বলতে পারবে না। রাস্তায় নামলেই মনে হয় চারপাশে ঘিরে আছে খুনি, সন্ত্রাসী, মাদককারবারী ও প্রতারক চক্রের খপ্পর। অথচ জনগণের করের টাকায় বেতনপ্রাপ্ত পুলিশ বাহিনী কোথায়? তারা ব্যস্ত কেবল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পেছনে ধাওয়া করতে — জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা যেন বাদেই গেছে।
*প্রতারণার রাজধানী*
ঢাকার রাস্তায় পা রাখলেই নানা ফাঁদ লুকিয়ে আছে
ফার্মগেট সিন্ডিকেট: ভিড়ের মধ্যে কেউ মারাল আপনি সাহায্য করতে গেলে মুহূর্তে সংঘবদ্ধ দল আপনার সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।
ওভারব্রিজ ফাঁদ: কাঁদতে থাকা মেয়ে মোবাইল চাইবে; কল দিলেই পরে ব্ল্যাকমেইল শুরু।
শাহবাগ–যাত্রাবাড়ীর লিফলেট ফাঁদ: রোগ সারানোর প্রতিশ্রুতি বা রুম-ডেটের প্রলোভনে মানুষ ফাঁদে পড়ে।
বোরকা আলির প্রলোভন: চোখের ইশারায় ভেসে গেলেই ব্ল্যাকমেইলের শিকার।
ঘাট ও টার্মিনালের জুয়ার ফাঁদ: গাবতলি, সদরঘাট, মাওয়া—এগুলোতে তাস-লুডু খেলুড়ের আড়ালে ছড়ায় ছিনতাই ও প্রতারণা।
প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই প্রতারকদের কাছে সর্বস্ব হারাচ্ছে।
*পুলিশ কি জনগণের জন্য*
প্রশ্ন একটাই জনগণের করের টাকায় বেতন পাওয়া পুলিশ কি জনগণের সেবা করছে? নাকি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনই তাদের প্রধান কাজ হয়ে গেছে? বাস্তবতা বলছে ঢাকার সাধারণ মানুষ এখন প্রতারকের হাতে জিম্মি, আর পুলিশ রাজনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত। ছিনতাইকারী, মাদককারবারী ও খুনিদের ধরার বদলে পুলিশ যখন দলীয় স্বার্থের কাজে লিপ্ত হবে, তখন অপরাধীর রাজত্বই বিস্তার পাবে।
*অরাজকতার নগরী*
ঢাকার প্রতিটি ঘাট, টার্মিনাল, ওভারব্রিজ ও লঞ্চঘাট এখন অঘোষিতভাবে অপরাধীদের সদর দফতর। নাগরিকরা আতঙ্কে জীবনযাপন করছে—যেন রাজধানী নয়, এক খোলা কারাগার। আইন যেখানে নীরব, সেখানেই অপরাধীর দাপট বেড়ে যায়।
ঢাকা আজ শুধু রাজধানী নয়—এটি প্রতারণা, সন্ত্রাস আর মাদকের মহানগরী। যদি পুলিশ তাদের মৌলিক দায়িত্ব ভুলে রাজনৈতিক দমন-পীড়নেই মগ্ন থাকে, তবে এই শহর অচিরেই নাগরিকদের জন্য মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে।