নিউজ ডেস্ক :: ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর কোটি মানুষের জীবনরক্ষাকারী পানি সরবরাহের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি এখন জনস্বার্থের জায়গা থেকে সরে গিয়ে যেন দুর্নীতির নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। প্রশাসনের শীর্ষপদ বেচাকেনার অভিযোগ এ শহরের মানুষকে বিস্মিত নয়, বরং ক্ষুব্ধ করেছে।
১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে ঢাকা ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আগে ছিলেন ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী।
কিন্তু আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ঘোষণার সঙ্গে-সঙ্গেই উঠেছে অস্বচ্ছতার অভিযোগ—কারা এই নিয়োগ “সুপারিশ” করেছে এবং কোন প্রক্রিয়ায়?
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলসহ একাধিক সূত্র অভিযোগ করছে যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া ১২০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এমডি নিয়োগ “নিশ্চিত” করেছেন।
এটি শুধু অনিয়ম নয়; এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক প্রকাশ্য ধৃষ্টতা।
এটি দুর্নীতি নয়; এটি দুর্নীতির দাপট।
এটি লজ্জাজনক নয়; এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি নির্মম চপেটাঘাত।
রাজধানীর পানির গুণগত মান, নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রকৌশল ব্যবস্থাপনাকে যারা নিয়ন্ত্রণ করেন—তাদের নিয়োগে যদি দুর্নীতি থাকে, তাহলে সেখানেই শহরের ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের বীজ বপন করা হয়।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা সরাসরি বলেছেন—
“এটি শুধু অনিয়ম নয়—এটি প্রশাসনিক নৈতিকতার পতন। রাষ্ট্রীয় পদ বিক্রিতে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি না হলে প্রশাসনের কোনো অংশই সৎ থাকতে পারবে না।”
আরেকজন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন—
“যদি ঢাকা ওয়াসার মতো সংস্থায় দুর্নীতিপরায়ণ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন হয়, তাহলে শহরের পানি নিরাপত্তা ধ্বংসের পথে।”
জনগণের ক্ষোভ—তীব্র, স্পষ্ট এবং সোজাসাপ্টা
রাজধানীর বহু বাসিন্দার মুখে একই কথা—
“দুর্নীতির মাধ্যমে পদ কেনাবেচা চললে পানি নিরাপত্তা কোথায়? আমাদের জীবন নিয়ে কারা খেলছে?”
মিরপুরের এক শিক্ষক বলেন—
“যে উপদেষ্টার নাম ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে বারবার উঠে আসে, তার পদত্যাগ ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ফিরবে না।”
জনদাবি: তদন্ত, অপসারণ, এবং দুর্নীতিবাজদের পদত্যাগ
সংস্থার অভ্যন্তরে যেসব নিয়োগ দুর্নীতির ছায়ায় হয়েছে—তা বাতিল করতে হবে।
বিশেষ করে অভিযোগে যার নাম এসেছে—উক্ত উপদেষ্টার পদত্যাগ করতে হবে স্বচ্ছতার স্বার্থে।
কারণ প্রশ্নটি এখন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়;
প্রশ্নটি রাজধানীর মানুষের জীবনের, পানির নিরাপত্তার, রাষ্ট্রের ন্যায়ের।
ঢাকা ওয়াসা যদি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়, তাহলে এর মূল্য দেবে পুরো শহর।
রাজধানীর মানুষ বলছে—
“দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নাও, দায়ীদের পদত্যাগ নিশ্চিত করো—না হলে ওয়াসা নয়, পুরো শহরই ডুবে যাবে।”