ঢাকা–১৭ আসনের জামাত প্রার্থী অস্ত্রসহ সেনানিবাসে প্রবেশের চেষ্টা, আটকে দিয়েছে গেটে

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: ঢাকা–১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানকে অস্ত্র নিয়ে সেনানিবাসে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে গেটে আটকে দেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে আগের বিতর্কের উপর, যেখানে শুধু ভাষণ বা অঙ্গভঙ্গি নয়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলার সীমারেখা সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
সেনানিবাস কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। সেখানে অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টা—যে উদ্দেশ্যেই হোক—রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সর্বাধিক গুরুতর ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশ্ন জাগে, একজন রাজনৈতিক প্রার্থী হিসেবে তিনি কি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন—ক্ষমতার প্রদর্শন, ভয় প্রদর্শন, নাকি ইচ্ছাকৃত সংঘাত সৃষ্টি?
এর আগে সেনানিবাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে ভাষা ও অঙ্গভঙ্গিতে সেনাবাহিনীকে কার্যত আক্রমণের মুখে ফেলা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে সংঘর্ষমূলক রাজনীতি করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে সংবিধান প্রশ্নবিদ্ধ করার ইতিহাস এই ধারারই অংশ। এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতার একটি নতুন অধ্যায়, যেখানে রাজনৈতিক সীমা নয়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়কেই পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এখানে প্রশ্ন শুধুই ব্যক্তিগত নয়। প্রশ্ন হলো—রাজনীতির নামে কতদূর যাওয়া গ্রহণযোগ্য? আজ যদি একজন প্রার্থী অস্ত্র নিয়ে সেনানিবাসে ঢোকার চেষ্টা করেন, কাল কি অন্য কেউ বিচারালয়, সচিবালয় বা সংবিধানকেও একইভাবে চ্যালেঞ্জ করবে?
সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এটি স্বস্তির। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে ঘটনাটি হালকা করার সুযোগ নেই। এটি স্পষ্ট করে দেখায়—কিছু রাজনৈতিক শক্তি গণতন্ত্রকে প্রতিযোগিতার মাঠ নয়, ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।