ঢাবিতে বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ:

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্তের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন স্বাক্ষরিত এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে (১০ জানুয়ারি, শনিবার) এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

লিখিত প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে যে, “একাত্তরের পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি পাকিস্তানের দোসর, অবৈধ ও জামাতি উপাচার্য কর্তৃক পরিকল্পিত ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করার ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী এই ঘৃণিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। গতবছর এই অবৈধ জামাতি উপাচার্য কর্তৃক ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও গণধর্ষণে জড়িত পাকিস্তানের সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতবছর এই অবৈধ জামাতি উপাচার্য গোপনে নীলক্ষেতে ভুয়া ব্যালট পেপার তৈরী করে ভোট কারচুপি ও অনিয়ম করে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তি ছাত্রশিবিরকে ডাকসু নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করেছে। গত ৮ জানুয়ারী আবার স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি পাকিস্তানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর নামে স্থাপিত আবাসিক হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে অনুমোদন দিয়ে সিনেটে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিষ্টাচার, রীতিনীতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ পরিপন্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি অনুয়ায়ী, বিগত ২০১৫ সালে জরুরী সিন্ডিকেট সভা ডেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল ঢাবি কর্তৃপক্ষ। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই জামাতি প্রশাসন গত ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেট সভায় গোপনে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যা মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ঢাবির নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে অপারেশন সার্চলাইটের নামে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী পরিকল্পিত ভাবে ঢাবির সকল আবাসিক হল ও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নির্মমভাবে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছিল। ঢাবিতে এখনো সেই নারকীয় গণহত্যার চিহ্ন ও শহীদদের অনেক বধ্যভূমি রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দাবি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর জরুরী সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রি থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে এদেশে বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালিয়ে তারা অস্বীকার করেছে। এমন গণহত্যা অস্বীকারকারী রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাখতে পারে না। যতদিন পর্যন্ত তারা গণহত্যা, গণধর্ষণ ও নির্যাতনের কথা স্বীকার করবে না ততদিন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখবে না। নতুন করে ঢাবির কোনো শিক্ষার্থী পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবে না। একইভাবে পাকিস্তানের কোনো শিক্ষার্থীকেও ঢাবি গ্রহণ করবে না। অবৈধ ও অসাংবিধানিক অন্তবর্তীকালীন সরকার কর্তৃক অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তির দোসর ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যা কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা মেনে নিবে না। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নিযুক্ত একাত্তরের গণহত্যায় জড়িত পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ প্রায় এক দশক পরে জামাতি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত করে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সিদ্ধান্তের গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়ে ন্যাক্কারজনক পরিকল্পনা করেছিল যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শহীদের রক্তের সাথে চরম বেঈমানী। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সাথে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঢাবির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধুর আহবানে মহান মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি রাজাকার আলবদরদের সহযোগিতায় পাকিস্তান সেই প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ঢাবিতে ২৫ মার্চে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও ১৪ ডিসেম্বর শত শত বুদ্ধিজীবী শিক্ষককে আবাসিক ভবন থেকে তুলে নিয়ে যেয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এখনো সেই নির্মম ও নৃশংস গণহত্যার ইতিহাস ভুলে যায়নি। বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাতি উপাচার্য ও প্রশাসন পরিকল্পিত ভাবে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চালাচ্ছে যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধান পরিপন্থী। জামাতি উপাচার্য গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তি পাকিস্তানের এজেণ্ডা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে অস্ত্রবাহী জাহাজ আনয়ন, ঢাবিতে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তি শিবিরের রাজনীতি চালুকরণ, বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন ও পাকিস্তানের সাথে একাডেমিক সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত সবকিছু একই সূত্রে গাঁথা। এসব ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বর্তমান ঢাবি প্রশাসনের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চরিত্র জাতির সামনে আবার উন্মোচিত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে গণহত্যা ও ২ লক্ষ মা-বোনকে গণধর্ষণের অপরাধে পাকিস্তান আজও পর্যন্ত বাংলাদেশের নিকট রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চায়নি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার একাত্তর সালে বাঙালি গণহত্যা ও গণধর্ষণে জড়িত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিচার করেনি। সুতরাং পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কোন ধরনের সম্পর্ক স্থাপন এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এদেশের জনগণ কখনোই মেনে নিবে না। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা হলের নাম পরিবর্তন ও ঢাবির সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক স্থাপনের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সকল সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নিকট উদাত্ত আহ্বান, সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে রাজপথে নেমে এসে অবৈধ জামাতি উপাচার্যের পদত্যাগ নিশ্চিত করুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার জন্য অবিলম্বে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির দোসরদের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিন। রাজাকারের দোসরদের পরাজয় অবধারিত। বিজয় আমাদের হবেই। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”