“তারাগঞ্জে দুই হিন্দু ব্যক্তি হত্যায় ভিডিওতে ৭ বিএনপি কর্মী শনাক্ত, গ্রেপ্তারে গড়িমসি”

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দুই হিন্দু ব্যক্তি—রূপলাল দাস ও প্রদীপ লালকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে মারধরে জড়িত অন্তত সাতজনকে শনাক্ত করা গেলেও পুলিশ তাঁদের এখনো গ্রেপ্তার করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে তারা স্থানীয় বিএনপি ও জামাতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত । নিহতদের পরিবার এবং স্থানীয়রা বলছেন, ভিডিওতে সবকিছু পরিষ্কারভাবে ধরা পড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে গড়িমসি করছে।

ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বটতলা এলাকায় রূপলাল দাস ও প্রদীপ লালকে আটকের পর কয়েকজন স্থানীয় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। প্রদীপ তাঁর ভ্যানের আসনের পাশে আর রূপলাল ভ্যানের পেছনে বসা ছিলেন। ঠিক সেই সময় এক যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার করে বলেন—“পিটাও রুবেল ভাই, পিটাও।” এরপরই সাদা শার্ট পরিহিত এক যুবক প্রদীপের কলার ধরে টেনে নিয়ে ঘুষি মারতে থাকেন। ভিডিওতে দেখা ওই ব্যক্তি হচ্ছেন বালাপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে খায়রুল ইসলাম। এ ছাড়া আরও অন্তত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন তারা সবাই বিএনপির ও স্থানীয় জামাতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ।

নিহত রূপলালের ছেলে বলেন, “আমাদের বাবাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। ভিডিওতে সব প্রমাণ আছে, তবুও পুলিশ এখনো কাউকে ধরছে না। আমরা ন্যায়বিচার চাই।” প্রদীপ লালের ভাইয়েরও একই অভিযোগ—“যাদের নাম সবাই জানে, চেহারা ভিডিওতে ধরা পড়েছে, তাদের আড়াল করছে পুলিশ।”

পুলিশ সূত্র বলছে, তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তবে কেন এখনো শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি তারা।

এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সমাজে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, যদি এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার না হয়, তবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আরও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। প্রকাশ্যে সংঘটিত হত্যার ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আসামিরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমন অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে প্রতিনিয়ত।