তালেবানি শাসনের নীলনকশা, মামুনুল হকের আফগান সফর ও ইউনুস সরকারের মৌলবাদী পৃষ্ঠপোষকতা

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: সম্প্রতি আফগানিস্তান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতের বিতর্কিত নেতা মাওলানা মামুনুল হক। জানা গেছে, তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি এনজিওর সহায়তায় সঙ্গীসহ আফগানিস্তান ভ্রমণ করেছেন। এ সফরের পেছনে যে উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে, তা বাংলাদেশের জন্য কোনো শুভ সংবাদ নয়। বরং এটি এক নতুন অন্ধকার নীলনকশার বার্তা—আফগানিস্তানের আদলে বাংলাদেশে তালেবানি শাসন কায়েমের ষড়যন্ত্র।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তার মূল ভিত্তিই ছিল গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নারীর অধিকার। অথচ সেই অর্জনকে মুছে ফেলে বাংলাদেশকে আবারও ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। আফগানিস্তানের মডেল মানেই নারীকে গৃহবন্দি করা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা, গণতান্ত্রিক কাঠামোকে অস্বীকার করা, আর ভিন্নমত দমন করা। মামুনুল হক ও তার অনুসারীরা ঠিক এই আদর্শকেই বাংলাদেশে প্রয়োগ করতে চায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মামুনুল হকের এ সফর নিছক সৌজন্য ভ্রমণ নয়; বরং এটি মৌলবাদী শক্তির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের এক প্রচেষ্টা। আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে কিভাবে একটি তালেবানি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়—সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা পাওয়াই ছিল এ সফরের মূল লক্ষ্য।

অধিকতর উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কর্মকাণ্ড ঘটছে ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকারের নীরব সমর্থন ও ছত্রচ্ছায়ায়। ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে মৌলবাদী চক্র নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। একদিকে দেশবাসী দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট ও দমননীতিতে জর্জরিত, অন্যদিকে মৌলবাদী শক্তি সুযোগ নিচ্ছে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের।

বাংলাদেশের মানুষকে মনে রাখতে হবে, যারা আজ তালেবানি শাসনের স্বপ্ন দেখছে, তারাই একসময় পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর ছিল। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সেই শক্তিই আজ আবার নতুন ছদ্মবেশে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছে। মামুনুল হকের আফগান সফর তারই প্রমাণ।

এখন প্রশ্ন—জনগণ কি আবারো মৌলবাদী শাসনের অন্ধকারে ফিরে যেতে রাজি হবে? নিশ্চয়ই না। তাই আজই প্রয়োজন সজাগতা, প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষকে রাস্তায়-রাজপথে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশে তালেবানি শাসনের কোনো স্থান নেই, থাকতে দেওয়া হবে না।