দিনপত্র ডেস্ক :: সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ (CETC) ইন্টারন্যাশনাল–এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে (G2G) একটি ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় দেশে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (UAV) বা ড্রোন তৈরির শিল্প গড়ে তোলা হবে। অর্থাৎ ভেতরে থেকে কর্মদক্ষতা ও সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করা হবে।
এই উদ্যোগের পেছনে সম্ভবত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনে যুক্তির কিছুটা স্থান আছে—বিশেষত ড্রোন প্রযুক্তি এখন মানব সুরক্ষা, নজরদারি, দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বা কর্মসংস্থান নয়, এর সামরিক–রাজনৈতিক ইমপ্লিকেশনগুলোও চোখচড়িয়ে দেখা উচিত।
জানানো হয়েছে যে ড্রোন কারখানার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে কখনো ওই অঞ্চলে ভারতের ইকোনমিক জোন তৈরির সম্ভাবনার কথা ছিল বলে কথা এসেছে। তা বাস্তবায়িত না হয়ে, এবার একই অঞ্চলে চীনের সহায়তায় সামরিক প্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা বহন করে। যদিও সরকার আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ অবস্থান বলছে, এটি কেবল সমঝোতা বা বিনিয়োগ নয়—এর জিওস্ট্রাটেজিক মানে রয়েছে, বিশেষ করে ত্রিপুরার মতো সঙ্কলিত সীমান্তবর্তী এলাকায়, যেখানে ভারত–বাংলাদেশ–চীন ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক সংবেদনশীল।
এ ধরনের বড় প্রকল্প কেবল অর্থনৈতিক ডেটা বা প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয় তার সামরিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রভাব সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।