দিনপত্র ডেস্ক :: দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে দেশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত এই সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই জনআস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুদকের অভ্যন্তরে জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, দুদকের মহাপরিচালক জামায়াত পন্থী কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন শিবলির বিরুদ্ধে অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তার অপসারণের দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যদি বিতর্ক বা আস্থাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
অভিযোগকারীরা আরও বলছেন, দুদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় রাজনৈতিক বা আদর্শিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ফলে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য বিষয়। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই সমাধান খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও নৈতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দুদকের ভেতরে যে কোনো ধরনের অসন্তোষ বা বিতর্ক দ্রুত সমাধান করা না গেলে তা দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের গতিকে দুর্বল করতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, ব্যক্তি নয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও কার্যকারিতাই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। স্বচ্ছ তদন্ত, অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতেই শক্তিশালী হোক দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান এটাই সময়ের দাবি।