দেখামাত্র গুলি’ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায় , আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত দমননীতি

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: দেশের দুটি বৃহত্তম মহানগরে পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই পুলিশ কমিশনারের কঠোর নির্দেশ—সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বাসে আগুন, ককটেল নিক্ষেপ বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত যে কাউকে দেখামাত্র গুলি করার ঘোষণা—রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো—
এই নির্দেশ কি কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কৌশল, নাকি আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনসমূহকে দমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উদ্যোগ?

চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পরপর দুই কমিশনারের নির্দেশনার পরই বিভিন্ন মহলে আলোচনা তীব্র হয়েছে যে সহিংসতা প্রতিরোধের নামে রাজনৈতিকভাবে নির্দিষ্ট একটি দলকে দমিয়ে রাখার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর বেতার বার্তায় উল্লেখিত হয়েছে যে বাসে আগুন দেওয়া বা ককটেল নিক্ষেপকারীকে দেখামাত্র গুলি করা হবে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন খবর ছড়ায় যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ প্রযোজ্য—তখনই প্রশ্ন আরও গভীর হয়।

চলমান রাজনৈতিক পরিবেশে আওয়ামী লীগের মাঠের নেতাকর্মীরা সরকার বিরোধী তৎপরতার প্রতিক্রিয়ায় পথে নেমেছে;

কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই নির্দেশ তাদের আন্দোলন বা উপস্থিতিকেও “সহিংসতা” বলে চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করছে;

ফলে, আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিরোধ বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই নেতা-কর্মীরা তাৎক্ষণিক গুলির ঝুঁকিতে পড়ছেন।

এই ব্যাখ্যা শুধু সমালোচকদের নয়—মাঠের সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও প্রকট হয়ে উঠছে উদ্বেগ।

ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইউটিউব লাইভ এবং রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর টাইমলাইনে কয়েকটি বিষয় বারবার দেখা যাচ্ছে—

আওয়ামী লীগের যে কোনো সমাবেশ বা প্রতিরোধ কর্মসূচিকে জোর করে সহিংসতার তকমা লাগানো হতে পারে।

পুলিশ কার নির্দেশে, কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে গুলি করবে—এটি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবহার করা সহজ।

চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনায় এই নির্দেশ ক্ষমতাসীনদের পক্ষে নয়, বরং মাঠের সংগঠনগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

বাসে আগুন বা ককটেল—এসব তো বহু সময়েই উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটানো হয়েছে। এখন কি এসব অজুহাত ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের মাঠের মানুষকে দমন করা হবে?”

বাংলাদেশে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, পুলিশ সবসময়ই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে থাকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন—

সমালোচকরা বলছেন, এই নির্দেশগুলো এমন সময় এসেছে যখন রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের উপর চাপ বাড়ছে, এবং তাদের রাস্তায় নামাকে নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের প্রয়োজন হতে পারে।
ফলে এই নির্দেশ রাজনৈতিক সমীকরণে একটি টুল হিসেবে দেখা হচ্ছে—স্রেফ আইনশৃঙ্খলা কৌশল হিসেবে নয়।

‘দেখামাত্র গুলি’—এমন নির্দেশ যে কোনো দেশে বিতর্ক তৈরি করে, কিন্তু বাংলাদেশে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও গভীর।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন—

এটি মূলত একটি দলকে নিয়ন্ত্রণ ও ভীত রাখার কৌশল—বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মাঠের রাজনীতিকে দুর্বল করার প্রয়াস।

যদিও সরকারি পক্ষ দাবি করছে এটি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, মানুষের নিরাপত্তার জন্য—
তবু বাস্তবতা হলো:
নির্দেশটি রাজনৈতিকভাবে যাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে, তারা হলো আওয়ামী লীগ ও তাঁদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এই কারণেই জনমতের বড় অংশ মনে করছে আইনের নামে ক্ষমতার প্রয়োগ নয়, ক্ষমতার নামে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে।