দিনপত্র ডেস্ক :: স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখার জন্য একজন মানুষকে কয়েক ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। এই বর্বরতা এবং মানবিকতার অভাব দেখিয়ে দিচ্ছে দেশের প্রশাসন কোথায় দাঁড়িয়েছে—মানুষের জীবন ও দুঃখের কোনো মূল্য নেই।
বাগেরহাট ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন জুয়েলকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। জেলখানায় থাকার সময় তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না, সন্তানকে কোলে নিতে পারছেন না। বারবার আবেদন সত্ত্বেও জামিনও মেলেনি। হতাশায় তার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, লাশ দেখার জন্যও তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলো না। স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগও দেওয়া হয়নি। কবরে এক মুঠো মাটি দেওয়া পর্যন্ত অনুমতি নেই। এক মানুষকে কতভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে আহত করা যায়—এটি দেখিয়েছে ইউনুস সরকার এবং তার প্রশাসন।
এখন প্রশ্ন উঠে—দেশে কি সত্যিই পশুর রাজত্ব চলছে? যেখানে আইন, মানবিকতা এবং ন্যায়বিচার সবই অসহায়। সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়, কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের কষ্টের কোনো মূল্য নেই। জনমতের আওয়াজ এখন বাধ্যতামূলক। সাদ্দাম হোসেনের ক্ষতি শুধরানোর জন্য এবং এমন অব্যবস্থার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থে একজন মিথ্যা মামলার আসামিকে এতভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে, অথচ যুদ্ধাপরাধে জড়িত অপরাধী জঙ্গিদেরকে ইউনুস সরকার মুক্তি দিয়েছে । এটি চরম অমানবিকতা এবং প্রশাসনিক অন্যায়ের এক নজির। সাদ্দাম খুনি নয়; তিনি রাজনীতির দায়িত্ব পালনের কারণে ন্যায়বিচারের স্বার্থে পীড়িত।
দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ, হতাশ এবং প্রতিটি মানবিক মূল্যবোধ লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সজাগ। এটি এখন ভাইরাল ক্ষোভ, যা সরকারের অবহেলা, প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ফুঁসে উঠেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায় এবং মানবিক অধিকার রক্ষা না হলে এই ক্ষোভ আরও তীব্র হবে।