ধর্মকে রাজনীতির বাইরে রেখে উন্নয়নের মাধ্যমে ঈমানের প্রমাণ দিয়েছেন শেখ হাসিনা

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: শেখ হাসিনা কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করেছেন ইসলামপ্রেম৫৬০ মডেল মসজিদ নির্মাণ ধর্ম ও উন্নয়নের এক অনন্য মেলবন্ধন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম সবসময়ই এক সংবেদনশীল ও প্রভাবশালী উপাদান। যুগে যুগে রাজনৈতিক শক্তিগুলো ধর্মকে ব্যবহার করেছে ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে—কখনো স্লোগানে, কখনো বক্তৃতায়, আবার কখনো বিভাজনের অস্ত্র হিসেবে। যারা নিজেদের “ধর্মপ্রেমী” বলে পরিচয় দেয়, তাদের অনেকে বাস্তবে ধর্মের পবিত্রতাকে কলুষিত করেছে ভোটের রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে।

কিন্তু এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যতিক্রম এক নাম শেখ হাসিনা। তিনি কখনো ধর্মকে রাজনীতির ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেননি। বরং, তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে নিজের বিশ্বাস ও নৈতিক দায়িত্বকে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন।
তিনি কখনো ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ঘরে গিয়ে ভোটের ভিক্ষা চাননি, কখনো ধর্মের নামে ঘৃণা ছড়াননি। বরং তিনি উন্নয়ন, ঐক্য ও ন্যায়ের মাধ্যমে দেখিয়েছেন ইসলামের চেতনা কথায় নয়, বাস্তব কর্মে প্রতিষ্ঠিত হয়।

*ধর্মীয় অবকাঠামোয় ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত*

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ৬৪টি জেলায় নির্মিত হয়েছে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এগুলো শুধু নামাজ পড়ার স্থান নয় বরং ইসলামি জ্ঞানচর্চা, নৈতিক শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের আধুনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।

বিশ্বের কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই এমন বিশাল পরিসরে সরকারিভাবে একসঙ্গে এত মসজিদ নির্মাণের নজির নেই। এটি শুধুমাত্র একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয় এটি ধর্মীয় পুনর্জাগরণ, সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জাতীয় চেতনার বাস্তব প্রতিফলন।
এই উদ্যোগ প্রমাণ করে শেখ হাসিনা শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ঈমানদার রাষ্ট্রনেত্রী, যিনি ইসলামী মূল্যবোধকে উন্নয়নের মূলস্রোতে যুক্ত করেছেন।

*এখন ধর্মের অপব্যবহার চলছে*

দুঃখজনকভাবে, একই সময়ে দেশের কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতা ধর্মকে ব্যবহার করছেন বিভ্রান্তি ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে। বক্তৃতায় ধর্মের বুলি, কিন্তু বাস্তবে স্বার্থের রাজনীতি—এই দ্বিচারিতা এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট।
ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসকে ব্যবহার করে যারা ভোটের বাণিজ্য করে, তারা প্রকৃত অর্থে সমাজে বিভেদ, ঘৃণা ও অবিশ্বাসের বীজ বপন করছে। ইসলামের মর্মবাণী ন্যায়, সংযম ও সততার ওপর প্রতিষ্ঠিত—যারা এই নীতিগুলো উপেক্ষা করে, তাদের ধর্মপ্রেম আসলে ভণ্ডামিরই আরেক রূপ।

*ঈমানদারদের দায়িত্ব*

আজকের সময়ে প্রকৃত ঈমানদার মুসলমানদের দায়িত্ব হলো সচেতনভাবে বুঝে নেওয়া, কে সত্যিই ধর্মকে শ্রদ্ধা করে, আর কে ধর্মের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে। ইসলাম কখনো হিংসা, লোভ বা প্রতারণা শেখায় না।
যে নেতৃত্ব ইসলামকে উন্নয়ন, শিক্ষা ও ন্যায়ের পথে প্রয়োগ করে তাকে সমর্থন করাই ঈমানদার নাগরিকের প্রকৃত দায়িত্ব।
ধর্মের নামে ভণ্ডামি নয় উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ এই তিন পথই ইসলামী চেতনার আসল প্রতিফলন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে ধর্মীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন, ইসলামিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, হজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সবকিছুই এক ঈমানদার নেতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি প্রমাণ করেছেন, ধর্মকে ভালোবাসা মানে ঘৃণা ছড়ানো নয়, বরং উন্নয়ন ও ন্যায়ের মাধ্যমে মানুষকে কল্যাণে পথ দেখানো।

আজ তাই বলা যায়—

শেখ হাসিনা কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করেছেন ইসলামপ্রেম।
এটাই এক আধুনিক রাষ্ট্রনায়কের ঈমানের প্রকৃত প্রকাশ।