ধর্ষক আলী রিয়াজের বিচার চাই—নিপীড়কের পক্ষে রাষ্ট্রের দাঁড়ানো আমরা মেনে নেব না

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশ আজ এমন এক অন্ধকার অধ্যায়ের ভেতর দাঁড়িয়ে, যেখানে অভিযোগকারীই শিকার আর ক্ষমতার ছায়ায় থাকা অভিযুক্তরা নিরাপদ। ড. ইউনুসের বিশেষ সহকারী আলী রিয়াজের বিরুদ্ধে রিফাত নামে এক তরুণীর উত্থাপিত যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু অভিযোগকারীর সুরক্ষা দেওয়ার বদলে তাকে পুলিশ পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নেওয়া—এটাই প্রমাণ করে রাষ্ট্র আজ কাকে রক্ষা করছে।

অভিযোগকারীর বদলে অভিযুক্তকে বাঁচানোর এই সংস্কৃতি—এই নির্মম প্রহসন—এই নোংরা রাষ্ট্রীয় বাস্তবতাকেই আমরা প্রত্যাখ্যান করি।

রিফাত নিখোঁজ—এটাই এখন বাস্তবতার সবচেয়ে নির্মম চিত্র।
অভিযোগকারী অদৃশ্য, আর অভিযোগের লক্ষ্য ব্যক্তি ক্ষমতার নিরাপদ বলয়ে অটল—এমনি চিত্র কোনো সভ্য রাষ্ট্রের নয়; বরং ভীতির, দাসত্বের, আর দমনপীড়নের রাষ্ট্রের চিত্র।

এ কোন নতুন বাংলাদেশ—যেখানে মুখ খুললেই মানুষ গায়েব?
যেখানে বিচার চাইলে জীবনের নিরাপত্তাই চলে যায়?
যেখানে রাষ্ট্রীয় শক্তি ভুক্তভোগীর বিপক্ষে দাঁড়ায়?

রিফাতকে আদালতের মুখ দেখানো হবে, নাকি নদীতে ভাসমান অচেনা লা/শ হিসেবে পাওয়া যাবে—এই ভয়ই প্রমাণ করে ন্যায়বিচার আজ ক্ষমতার বন্দি। জনগণ জানে—এই ভয় কোনো গুজব নয়; এটি বাংলাদেশে বহুবার পুনরাবৃত্ত বাস্তবতা।

এই নোংরা সক্ষমতা—এই দায়মুক্তির রাজনীতি—এই ভুক্তভোগী দমন—
আমরা মেনে নেব না।
আমরা চুপ থাকব না।
আমরা মাথা নুইয়ে দাঁড়াব না।

রাষ্ট্র যদি অভিযুক্তকে রক্ষা করে আর অভিযোগকারীকে নিঃশেষ করে দেয়—
তাহলে সেই রাষ্ট্র জনগণের নয়, বরং ক্ষমতার কারাগার।

আজ বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে, কথায়, জনতার ক্ষোভে—একই স্লোগান গর্জে উঠছে—

“অভিযোগের বিচার চাই—অভিযোগকারীকে ফিরিয়ে দাও—
ক্ষমতার আড়ালে লুকানো অন্যায় মানি না!”

যে নতুন বাংলাদেশের কথা বলা হয়েছিল—
এটা যদি সেই বাংলাদেশ হয়,
তবে এ দেশ নতুন নয়—এ দেশ শুধুই দমন-পীড়নের নতুন মুখোশ।

এই জনগণ অন্যায় দেখলে চুপ থাকবে না,
নিখোঁজকে গিলে খাওয়া নীতি আর সহ্য করবে না,
ক্ষমতার নিরাপত্তা বলয়কে আর ভয় করবে না।

প্রতিবাদ চলবে—
অভিযোগকারীর কণ্ঠ ফিরে না আসা পর্যন্ত,
অন্যায় নগ্ন না হওয়া পর্যন্ত,
ক্ষমতার দাপট ভেঙে না পড়া পর্যন্ত।