নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এনসিপি এখন এমন এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে, যখন জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও সহানুভূতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। যে দল একসময় ‘পরিবর্তন’ ও ‘মানবতার রাজনীতি’র স্লোগান তুলেছিল, সেই দলটির নেতারা আজ সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে গা ঢাকা দিচ্ছে। মাঠে নেই, জনগণের পাশে নেই শুধু বিলাসী জীবনযাপন আর ক্ষমতার বলয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখাই যেন তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
আজ দেশের শহর, বাজার, এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এক চিত্র স্পষ্ট যেখানে এনসিপির প্রতিনিধিদের দেখা পাওয়া মানেই তীব্র জনরোষের মুখোমুখি হওয়া। সাধারণ মানুষ তাদের প্রশ্ন করছে, “আপনারা কোথায় ছিলেন যখন দ্রব্যমূল্যের আগুনে আমরা পুড়েছি? যখন অন্যায় আমাদের ঘরে ঢুকে পড়েছে?” এই প্রশ্নের কোনো জবাব এনসিপির নেতাদের মুখে নেই। ফলে তারা আজ জনতার রোষ থেকে বাঁচতে গোপনে চলাফেরা করছেন রাস্তা নয়, জনগণের ভিড় নয়, বরং পাঁচতারা হোটেল, সচিবালয় আর বিলাসবহুল দপ্তরই তাদের আসল ঠিকানা।
সাধারণ মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়াই তাদের পতনের প্রথম ধাপ। জনগণের অভিযোগ এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে সম্পদশালী হয়ে উঠেছে। কেউ কোটি টাকার মালিক, কেউ শতকোটি টাকার ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যে একটি নতুন ধনী শ্রেণি তৈরি হয়েছে, তা এখন সর্বজনবিদিত। অথচ এই সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো জবাব নেই, নেই স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি।
অন্যদিকে, জনগণের দুঃখ-কষ্ট প্রতিদিন বাড়ছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, নিরাপত্তাহীনতা, চাঁদাবাজি, মামলা-বাণিজ্য আর দুর্নীতির মহোৎসবে সাধারণ মানুষ আজ হাঁপিয়ে উঠেছে। অথচ এই অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো উদ্যোগ নেই। বরং যারা জনতার প্রতিনিধি হওয়ার কথা ছিল, তারা জনতার চোখে পরিণত হয়েছেন বিশ্বাসঘাতকে।
মানুষের মুখে এখন একটি কথাই ঘুরে বেড়াচ্ছে “দেশ ধ্বংসকারীদের শেষ রক্ষা হবে না।”
এই বাক্য শুধু রাগ বা প্রতিশোধের প্রকাশ নয় এটি এক সতর্কবার্তা, এক রাজনৈতিক সত্যের প্রতিধ্বনি। জনগণের ধৈর্য সীমাহীন নয়। তারা যখন ক্ষুব্ধ হয়, তখন রাজপথই হয়ে ওঠে ইতিহাসের বিচারালয়।