নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নগদ–এ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আতিক মোর্শেদকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনায় নগদের ডেপুটি সিইও মুয়ীজ নাসনিম ত্বকির নামও উঠে এসেছে।
অভিযোগে বলা হয়, আতিক মোর্শেদ নগদের কোনো কর্মকর্তা না হয়েও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের ৬ষ্ঠ তলায় নিজস্ব অফিস ব্যবহার করতেন। একই সঙ্গে তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা জুঁইকে কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার পদে নিয়োগসহ একাধিক আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টিকে অনেকেই স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
সূত্রগুলোর দাবি, নগদে সংঘটিত এই আর্থিক অনিয়মে নাহিদ ইসলাম সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না—সে প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে, নাহিদ ইসলামের তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আতিক মোর্শেদের প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অভিযোগ উপেক্ষিত থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের তদন্তের সময় ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মুয়ীজ নাসনিম ত্বকিকে পরবর্তীতে কারাগারে না পাঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আতিক মোর্শেদের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে কে বা কার প্রভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নাহিদ ইসলাম তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নতুন দল গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন সময় ডোনেশনের অর্থের কথা উল্লেখ করলেও, সেই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকেরা। অভিযোগ উঠেছে, নগদের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে আত্মসাত হওয়া অর্থ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না—তা তদন্তের দাবি রাখে।
এই বিষয়ে নাহিদ ইসলাম ও আতিক মোর্শেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নগদ কর্তৃপক্ষও নির্দিষ্ট করে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলো গুরুতর এবং স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্ত সংস্থার অগ্রগতির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে জনমত।