নিউজ ডেস্ক ::”অর্থনৈতিক স্থবিরতা, রাজনৈতিক দমননীতি ও জনঅসন্তোষে বাড়ছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা”
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নভেম্বর মাস বরাবরই পরিবর্তনের প্রতীক। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর বিপ্লব, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন—ইতিহাসের প্রতিটি মোড়ে এই মাসে ঘটেছে ক্ষমতার পালাবদল।
এখন আবার জনমনে সেই নভেম্বরকে ঘিরে নতুন আলোচনা।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিশ্বাস করছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরই হতে পারে অবৈধ সরকারের পতনের সূচনা।
অসন্তোষের আগুন চারদিকে
মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বিদ্যুৎ–জ্বালানি সংকট, ও দমননীতি—সব মিলিয়ে জনজীবন এখন চরম অসন্তোষে।
রাজধানীর এক দোকান কর্মচারী বলেন,
আগে ভয়ে কিছু বলা যেত না, এখন মানুষ ক্ষুধায় আর ভয় পায় না।”
গার্মেন্টস শ্রমিকের মন্তব্য আরও কঠোর,বেতন বাড়ে না, দাম বাড়ে প্রতিদিন। এই সরকারের পতন ছাড়া আমাদের মুক্তি নেই।”
শহর-গ্রাম সর্বত্রই এখন কথাবার্তায় এক ধরনের রাজনৈতিক ক্লান্তি ও পরিবর্তনের তীব্র চাহিদা স্পষ্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আরিফ মাহমুদ বলেন,
বাংলাদেশের ইতিহাসে নভেম্বর মানেই অস্থিরতা ও পরিবর্তনের সময়। যখন সরকার জনআস্থা হারায় এবং অর্থনীতি ভেঙে পড়ে, তখন নভেম্বরেই দেখা দেয় বিস্ফোরণ।”
তিনি মনে করেন,
অবৈধ সরকারের দমননীতি, গণগ্রেপ্তার ও সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ সব মিলিয়ে সমাজে সঞ্চিত ক্ষোভ এখন ফেটে পড়ার মুখে।”
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যাংক ঋণপ্রবাহে খরা, আর আমদানি সীমাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য এখন কার্যত স্থবির।
এক তরুণ উদ্যোক্তা বলেন,
ব্যাংক ঋণ দেয় না, বাজারে চাহিদা নেই, অথচ সরকার বলছে অর্থনীতি ভালো। বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।”
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে এখন স্পষ্টভাবে মতভেদ। এক প্রাক্তন চেম্বার সভাপতি বলেন,
অর্থনীতি বাঁচাতে হলে রাজনৈতিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে, আর তা এই সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, জনআস্থা হারানো সরকারের টিকে থাকা মানে সমাজে হতাশা তৈরি করা। নভেম্বর হয়তো সেই হতাশার অবসানের সময়।”
এক শিক্ষার্থী জানান,
আমরা রাজনীতি করতে চাই না, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই। সবাই মনে করছে—এই নভেম্বরেই পরিবর্তন আসবে।”
অর্থনৈতিক দুরবস্থা, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও গণআস্থাহীনতার সঙ্কট এখন চরমে।
ইতিহাস যেমন বলে—নভেম্বরেই ঘটে পরিবর্তন, তেমনি আজও মানুষের মুখে একই উচ্চারণ:
এই নভেম্বরেই অবৈধ সরকারের পতন ঘটবে।”
বাংলাদেশ এখন এক অনিশ্চিত প্রতীক্ষায়—যেখানে সময়ই বলে দেবে, নভেম্বর আবারও কি ইতিহাস লিখবে, নাকি জনআকাঙ্ক্ষা থেকে যাবে অপেক্ষার প্রহরে।