নিউজ ডেস্ক :: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা কমেনি, বরং কূটনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানি কূটনীতিকদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাদের সরকারি বাসস্থান খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ‘এক্সপ্রেস নিউজ’ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, কূটনীতিকদের হয়রানি করার পাশাপাশি তাদের ওপর কড়া নজরদারিও চালানো হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে তাদের আবাসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হয়রানির অংশ হিসেবে তাদের বাসস্থানের ইন্টারনেট সংযোগও বারবার বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় জম্মু ও কাশ্মিরের পাহেলগামে একটি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ভারত এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ জোরালোভাবে সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনার জেরে ভারত দুজন পাকিস্তানি কূটনীতিককে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে বহিষ্কার করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তারা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজে লিপ্ত ছিলেন। এর জবাবে পাকিস্তানও ইসলামাবাদে নিযুক্ত একজন ভারতীয় কূটনীতিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়।
পাহেলগাম হামলার পর থেকে পাকিস্তানবিরোধী কঠোর অবস্থান নেয় ভারত। এর অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যেকার ৬৫ বছরের পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল, ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া এবং নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সামরিক উত্তেজনাও চরমে পৌঁছায় যখন পাঞ্জাব ও আজাদ কাশ্মিরের ছয়টি শহরে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি মসজিদ ধ্বংসসহ বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে পাকিস্তান ভারতের তিনটি রাফালসহ মোট ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে।
গেল ১০ মে ভোররাতে ভারত পাকিস্তানের কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালালে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা চালিয়ে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ও বিমানঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।
দিনভর উত্তেজনার পর ওইদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, গভীর রাত পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব পৃথক বিবৃতিতে নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।