নিউজ ডেস্ক :: নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালি ইউনিয়নে বর্তমানে এক অঘোষিত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রতিযোগিতা এখন সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেকোনো মুহূর্তে প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, কারণ স্থানীয় এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দাপট ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বড় অংশ ব্যস্ত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়ে। এতে করে মূল অপরাধীরা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে, বরং তাদের অস্ত্র প্রদর্শন ও সংঘর্ষের প্রস্তুতি আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে। এক কথায় অস্ত্রধারী জঙ্গী ও সন্ত্রাসীরা এখন প্রশাসনিক উদাসীনতাকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করছে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপি-জামায়াত যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদকে শক্তিশালী করেছে। পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতিকে আশ্রয় দিয়ে তারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় সন্ত্রাসের ঘাঁটি তৈরি করেছিল। আজও তাদের কর্মকাণ্ড সেই ধারাবাহিকতারই পুনরাবৃত্তি,অস্ত্র, সংঘর্ষ, হত্যা ও জঙ্গী উত্পাদনের রাজনীতি।
এখন প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি তাদের প্রকৃত দায়িত্ব পালন করছে? সরকারের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যদি অবিলম্বে কঠোর অবস্থান নিয়ে এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দমন না করে, তবে সাধারণ মানুষের চোখে এই বাহিনীকে নিছক মেরুদণ্ডহীন হিসেবে দেখা হবে। মেরুদণ্ডহীন একটি বাহিনী যেমন জনগণের আস্থা হারাবে, তেমনি জঙ্গীদের জন্য তা হবে প্রেরণা। এর পরিণতিতে একের পর এক জেলা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, আর দেশ ক্রমেই অরাজকতার গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
আজ সময় এসেছে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার। জঙ্গী-সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ, নির্দয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের মতো বাংলাদেশ আবারও চরম বিপর্যয়ের পথে যাবে, আর দায়ভার পড়বে বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর।