Bangladesh Grameen Bank director Muhammad Yunus
দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার ইতিহাস দীর্ঘ হলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে মাত্রার অস্থিরতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, তা গভীর হতাশার জন্ম দিচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ঈদের মতো উৎসবমুখর’ করার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতি তার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।
নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতা রোধ করা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটছে, শত শত মানুষ আহত হচ্ছে, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যত নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সরকার চাইলে শুরু থেকেই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে পারত, উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রচারণার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে পারত। তা না করায় সহিংসতার দায় অনিবার্যভাবেই সরকারের ওপর বর্তায়।
এক দশকের বেশি সময় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ছিল নতুন আশায়। কিন্তু ইউনূস সরকারের দুর্বলতা ও সিদ্ধান্তহীনতা সেই আশাকে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় পরিণত করেছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ—নির্বাচনি বিধি একের পর এক লঙ্ঘিত হলেও কার্যকর শাস্তির দৃষ্টান্ত নেই। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে, আর সাধারণ ভোটার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতার কথা বললেও বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বহীন নিষ্ক্রিয়তায় রূপ নিয়েছে। নিরপেক্ষতা মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়—এই মৌলিক সত্যটি সরকার অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিণতিতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পথে, সহিংসতা বাড়ছে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এই নির্বাচনি সুযোগ যদি আবার বিতর্ক ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়, তার দায় ইতিহাসে ইউনূস সরকারের নামেই লেখা থাকবে। নির্বাচন কোনো স্লোগান বা প্রতিশ্রুতির বিষয় নয়—এটি নিশ্চিত করতে হয় শক্ত প্রশাসন, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় ভূমিকার মাধ্যমে। সেই পরীক্ষায় বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত ব্যর্থ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।