নির্বাচন ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ,প্রশাসন, ভোটকেন্দ্র ও নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে প্রশ্ন

লেখক: সুমন মাহমুদ,
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক অভিযোগে দাবি করা হচ্ছে, জামায়াত-ই-ইসলামী একটি সুপরিকল্পিত ও বহুমাত্রিক কৌশলের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের একাংশকে প্রভাবিত করার অভিযোগ,

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রান্তিক ও ‘সুইং’ আসন হিসেবে চিহ্নিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় অন্তত ৪০ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ২৪ জন পুলিশ সুপার (এসপি)-কে বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, দেশে অন্তত ৪৩টি সংসদীয় আসন রয়েছে যেখানে সামান্য হেরফেরেই নির্বাচনী ফল পাল্টে যেতে পারে—এবং এসব আসনকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে।

ভোটার ব্যবস্থাপনা ও জাল ভোটের শঙ্কা,

একাধিক সূত্র অভিযোগ করছে, কিছু এলাকায় মহিলা ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে জাল ভোটে ব্যবহৃত হতে পারে। পাশাপাশি যেসব নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি তুলনামূলক দুর্বল, সেখান থেকে ভোটারদের অন্য এলাকায় স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে—বিশেষ করে এমন এলাকাগুলোতে যেখানে বিএনপির অবস্থান দুর্বল করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোটের দিন সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা,

সূত্রগুলোর দাবি, ভোটের দিন ভোর থেকেই পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনের পরিস্থিতি তৈরি করে বিএনপি-সমর্থকদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বিএনপি-সমর্থিত এলাকাগুলোতে সহিংসতা সৃষ্টি করে ভোটগ্রহণ ব্যাহত করার পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, জামায়াত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্কুলের পরিচালনা কমিটিতে অনুপ্রবেশ করেছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের প্রভাবিত করে ভোট কারচুপির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রচারণা শক্তিতে বৈষম্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও অর্থবহুল ছিল। অন্যদিকে বিএনপির প্রচারণা কার্যক্রম তুলনামূলক দুর্বল ছিল বলে মত দিয়েছেন অনেক পর্যবেক্ষক। দলের প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত প্রচারণা কমিটিকে অনেকেই যথেষ্ট কার্যকর মনে করেননি।

সেনাবাহিনীকে ঘিরে বিতর্ক
সবচেয়ে আলোচিত,

অভিযোগগুলোর একটি নিরাপত্তা বাহিনীকে ঘিরে। দাবি করা হচ্ছে, প্রায় ৩০ শতাংশ সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য জামায়াতের সঙ্গে মতাদর্শগতভাবে যুক্ত। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে যে, যশোর ও রংপুর বিভাগের জিওসিরা জনগণকে জামায়াতের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া খুলনা অঞ্চলের কয়েকটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, যা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিক্রিয়া মেলেনি
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সেনাবাহিনী কিংবা জামায়াত-ই-ইসলামীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।