নীতিহীন শাসন, ক্ষতিগ্রস্ত জাতি,জবাব চাই আমরা

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশ আজ এমন এক সংকটের কবলে পড়ে আছে যা কেবল অর্থনৈতিক নয় এটি নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সংকট। প্রশাসনিক অদক্ষতা, দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাব দেশের প্রতিটি স্তরে জায়গা পাকিয়ে নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিনিয়োগ খানিক কমছে না কেবল মানুষের আত্মবিশ্বাস, দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জীবিকার ব্যবস্থা চাপে ব্যবসা-উৎপাদন স্থবির, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকট সরাসরি সাধারণ মানুষের কাঁধে বোझা হয়ে পড়েছে। একই সময়ে সমাজে বেআইনি অর্থ-আচরণ, মাদক ব্যবসা ও ক্ষমতার অপব্যবহার অভিযোগ ঘনাচ্ছে যা কেবল কিছু অসচ্চল ব্যক্তির অপরাধ নয়, এটি ব্যবস্থার ফাঁক এবং নৈতিক নেতৃত্বহীনতার প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও প্রতিফলন মেলে—দেশের ভাবমূর্তি আঘাতপ্রাপ্ত; কূটনৈতিক সম্পর্ক ও শান্তিরক্ষায় অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে।

এখন সময় এসেছে কড়া জবাবদিহিতার। নেতৃত্বই যখন নীতিহীন হবে, সেক্ষেত্রে দেশের সব স্তরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব নিতে হবে,অভিযোগগুলো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগীভাবে তদন্ত করতে হবে এবং প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হলে জনগণের আস্থার পুনর্গঠন সম্ভব নয়।

একই সাথে গণমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা সংরক্ষণ অপরিহার্য। সুষ্ঠু সমালোচনা ও তদন্তের সুযোগ না দিলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করা যাবে না। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিমোদিত নীতিনির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অবিলম্বে নিতে হবে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে জীবনের মানোন্নয়ন করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হচ্ছে জনগণের আস্থার পুনর্গঠন নৈতিক নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং শক্তিশালী আইনি কাঠামো। ক্ষমতার স্থায়িত্ব অর্জনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণের আস্থা ফেরত আনা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজনীতি ও প্রশাসনকে দুর্বলতা স্বীকার করে সমাধানকেন্দ্রিক উদ্যোগ নিতে হবে কেবল বাক্য নয়, কর্মে প্রমাণ দিতে হবে।