নিউজ ডেস্ক :: তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে হঠাৎ করেই এক ধরনের আবেগঘন উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। সেই উচ্ছ্বাসের প্রতিধ্বনি শোনা যায় চিত্রনায়িকা পরীমনির লেখায়—“আজ এ দেশের মানুষ চায়…।” দাবি করা হয়, বক্তব্যটি এতটাই গভীর ছিল যে তা নাকি সরাসরি শিরদাঁড়ায় এসে বিঁধে গেছে। মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এক অলৌকিক মুগ্ধতা, যেন কয়েক দশকের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও রক্তাক্ত রাজনৈতিক ইতিহাস আচমকাই অদৃশ্য হয়ে গেছে। বক্তব্য শেষ হতেই নেমে আসে শান্তির অনুভূতি—আর কিছু চাওয়ার নেই, কারণ শব্দই যথেষ্ট, বাস্তবতার দায় আর প্রয়োজন পড়ে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুগ্ধতা নতুন নয়—শুধু চরিত্র বদলেছে। আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, ডিআইজি হারুন অর রশীদসহ একাধিক ক্ষমতাধর কর্মকর্তাই ছিলেন পরীমনির চোখে ‘হিরো’। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র যেখানে ছিল, সেখানেই তখন তার অনুরাগ। সময় বদলেছে, ক্ষমতার সমীকরণ নড়েছে, আর সেই সঙ্গে বদলেছে হিরোর নাম। আজ সেই তালিকায় নতুন সংযোজন—তারেক রহমান।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশমাত্র নয়; বরং এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গড়ে ওঠা এক চিরচেনা সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি, যেখানে নীতি বা আদর্শ নয়—ক্ষমতার দিকেই ঝুঁকে পড়ে মুগ্ধতা, প্রশংসা ও আনুগত্য। অতীতের হিসাব, রাষ্ট্রের ক্ষত কিংবা জনগণের স্মৃতি সেখানে গৌণ হয়ে যায়; মুখ্য হয়ে ওঠে কে আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এই প্রবণতা দেখিয়ে দেয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক বক্তব্য অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে আবেগ সৃষ্টি করতেই বেশি কার্যকর হয়। ইতিহাস তখন বোঝা নয়, বরং উপেক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর ঠিক সেই জায়গাতেই প্রশ্ন ওঠে—এই মুগ্ধতা কি সত্যিই শিরদাঁড়ায় বিঁধে, নাকি কেবল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হিরো বদলানোর আরেকটি উদাহরণ মাত্র!