অনলাইন ডেস্ক :: পর্বত্য শান্তি চুক্তিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক আমলাদের সক্রিয় অবস্থান জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন যে—বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও পাহাড়ের নাজুক নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই চুক্তি ছিল একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানপন্থী মতাদর্শের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে আলোচনায় থাকা কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন মঞ্চে পর্বত্য শান্তি চুক্তি বাতিলের দাবি তোলা শুরু করেছেন, যা রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতার আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে। বিভিন্ন নাগরিক আলোচনায় যে নামগুলো ঘুরে ফিরে আসছে—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান আযমী (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিমুল গনী (অব.), লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান (বরখাস্ত), সাবেক সচিব সাকির আলী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার ফরিদুল আকবর (অব.), লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবিএম আসাদুজ্জামান (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রোকনউদ্দিন (অব.) এবং কর্নেল আব্দুল হক (অব.)—এই তালিকা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তীব্র আলোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে—তাদের বক্তব্য, অবস্থান ও প্রচারপদ্ধতি পাহাড়ে অর্জিত শান্তিকে অস্থিতিশীল করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করছে এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বয়ান প্রচারের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। পর্বত্য অঞ্চল এখনো দেশের সংবেদনশীল নিরাপত্তা এলাকাগুলোর একটি, যেখানে উত্তেজনার সামান্য উস্কানিও উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং জাতিগত সম্প্রীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কিংবা শান্তিচুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত দেশবিরোধী শক্তিকে উৎসাহিত করতে পারে। জাতির মঙ্গল, পাহাড়ের শান্তি এবং বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণই এখন সবচেয়ে জরুরি চাহিদা।