পাকিস্তানি অপতৎপরতা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ:

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: ১লা ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবসে আহবান
“বিজয়ের মাসে শপথ নাও, পাকিস্তানি আগ্রাসন রুখে দাও” শিরোনামে বাংলাদেশ পাকিস্তানি অপতৎপরতা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন স্বাক্ষরিত এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে (১লা ডিসেম্বর, সোমবার) এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

লিখিত প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে যে, “বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও জঙ্গি রাষ্ট্র পরিণত করার লক্ষ্যে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের নানাবিধ ষড়যন্ত্র, অপতৎপরতা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ইউনুস সরকারের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি জামাত-শিবিরের নেতৃত্বে পাকিস্তান পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার জন্য নানাবিধ অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গতকাল বিজয়ের মাসের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামের সন্দীপে জামায়াতের কর্মসূচীতে পরিকল্পিত ভাবে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র আবার জনগণের সামনে প্রমাণিত হয়েছে। পাকিস্তানের এহেন ন্যাক্কারজনক যড়যন্ত্রের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে এক অভূতপূর্ব সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুধু ভূখণ্ড নয়, একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন সত্তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ সেই অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে যে, অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর থেকেই একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের নির্দেশে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চক্র আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নারকীয় গণহত্যার শিকার ৩০ লক্ষ শহিদদের আত্মত্যাগকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুছে ফেলার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকারের রাষ্ট্রীয় মদদে বাংলাদেশে পাকিস্তানের এসব কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত অপতৎপরতা ও আগ্রাসন প্রমাণ করে যে, এরা আবার বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।গত ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অবৈধ সরকারের ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পাকিস্তানপন্থী উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পুনরুজ্জীবিত হয়। বাংলাদেশ যেন পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত হতে থাকে। একদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে ভারত বিরোধিতার নামে হুজুগ তোলা হয়, অন্যদিকে আমাদের স্বাধীনতাকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলে। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যাচলাইন এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে ধৃষ্টতার সঙ্গে বলেছে—”সময় এসেছে পূর্ব পাকিস্তানকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার।” এটি কেবল একটি দেশের ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং পুরো জাতির আত্মপরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত।এছাড়াও গত এক বছরে পাকিস্তানি কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী এমনকি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর তৎপরতা বাংলাদেশে ক্রমশ বেড়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার ইস্যুটি “মীমাংসিত”। অথচ বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাশা করেছিল এবিষয়ে পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং একাত্তরের গণহত্যায় জড়িত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচার। কিন্তু অবৈধ সরকারের দুর্বল অবস্থান ও ন্যূনতম প্রতিবাদ না জানানো এটিকে প্রহসনে রূপ দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন এই অবৈধ সরকার পাকিস্তানের কাছে নতজানু? কেন পরাজিত শক্তিকে আবার বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে? বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে পাকিস্তানিদের এমন খেলা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একাত্তরে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও হানাদারবাহিনী যে ভয়াবহ নৃশংসতা চালিয়েছিল, সেই ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে আজকের পাকিস্তানমুখী তৎপরতা ৩০ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগ ও সম্ভ্রম হারানো ২ লক্ষ নারীকে অপমান করার শামিল। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষ একাত্তরের ন্যায় পুনরায় এই বিজয়ের মাসে পাকিস্তানের এসব বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ হবে। দেশের অর্জন, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণই হবে শেষ প্রতিরোধ। রাজাকারদের পরাজয় অবধারিত। বিজয় আমাদের হবেই। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”