পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে নতুন রাষ্ট্র গঠনের ‘মহাপরিকল্পনা’, সার্বভৌমত্বে নতুন ষড়যন্ত্রের ছায়া

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে আবারও দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক কার্যবিবরণীতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশের অংশবিশেষ, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ঘিরে এক আন্তর্জাতিক “মহাপরিকল্পনা” বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে।

সূত্র অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস তার উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য, এনসিপি জোট এবং কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠীর সহযোগিতায় এই পরিকল্পনায় যুক্ত। গোয়েন্দা মহলের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল করে রাষ্ট্রের সার্বভৌম কাঠামো নড়বড়ে করা।

*গ্রেটার ত্রিপুরা ল্যান্ড’ ও পৃথক রাষ্ট্রের নকশা*

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের একটি অংশ একীভূত করে “গ্রেটার ত্রিপুরা ল্যান্ড” নামে একটি স্বতন্ত্র ভূখণ্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিমা কয়েকটি এনজিও ও মানবাধিকার সংস্থা “পূর্ব তিমুর মডেলে” পার্বত্য চট্টগ্রামকে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার তৎপরতায় সক্রিয়।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন তথ্যযুদ্ধ, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার ও স্থানীয় রাজনীতিকদের প্রভাবিত করার কৌশল নিয়েছে।

*দেশি সহযোগীদের সক্রিয়তা*

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দেশের কিছু শিক্ষাবিদ, বামধারার রাজনীতিক এবং বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এনজিও কর্মীরা এই পরিকল্পনার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

*শেখ হাসিনার আগাম সতর্কবার্তা*

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতেও সংসদে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন যে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহল একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র করছে। তাঁর ভাষায়—বাংলাদেশের একটি অংশ, ভারতের মিজোরাম ও মিয়ানমারের কিছু অঞ্চলকে একত্র করে একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা চলছে, যা আমাদের স্বাধীনতার জন্য ভয়াবহ হুমকি।”

এই বক্তব্য এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে, কারণ সাম্প্রতিক রিপোর্টের তথ্যগুলো তাঁর আগাম সতর্কবার্তার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।

*ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতা*

স্বাধীনতার পর থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও জাতিগত সহাবস্থানের প্রতীক। কিন্তু এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিদেশি স্বার্থজড়িত তৎপরতা বহুবার দেখা গেছে। ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির পর পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু আন্তর্জাতিক এনজিওর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

*জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ*

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত, মিয়ানমার ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতি এখন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যেকোনো বিভাজনমূলক তৎপরতা শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করতে পারে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষায় এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো রাজনৈতিক ঐক্য ও জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়। বিদেশি প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় সরকার, রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী সমাজ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।