প্রসিকিউটর তাজুলের হুমকি, সেনাবাহিনীর ক্ষোভ, মুখোমুখি দুটি শক্তি

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক উত্তেজনার অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। আইনের নামে শক্তির প্রদর্শন আর রাষ্ট্রের শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামোর সঙ্গে সংঘাত—এই দুই বিপরীত বল এখন যেন একই অক্ষের দুই প্রান্তে অবস্থান করছে। একপাশে সরকার ও তার প্রসিকিউশন টিম, অন্যপাশে সেনাবাহিনী—দুটি শক্তিই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, অথচ আজ তারা মুখোমুখি।

সম্প্রতি প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুন্যালে হাজির না হলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের হুমকি দেন। তার এই মন্তব্য কেবল একটি আইনি অবস্থান নয়, এটি সেনাবাহিনীর মর্যাদাকে প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো। সেনাবাহিনীর ভেতরে এই বক্তব্যকে “রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অশ্রদ্ধা ও প্ররোচনামূলক আচরণ” হিসেবে দেখা হয়েছে।

এরপর থেকে সামরিক মহলে স্পষ্ট অস্বস্তি ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে সেনাবাহিনী কেবল সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়—এটি ছিল জাতির আস্থার প্রতীক, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে দেশের গর্বের প্রতিফলন। আজ সেই বাহিনীকে অকারণে বিতর্কের কেন্দ্রে টেনে আনা—রাষ্ট্রীয় ভারসাম্যের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

অন্যদিকে, ইউনুস সরকারের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। দেশে ও বিদেশে এই সরকারকে “অবৈধ ও প্রতিনিধিহীন” বলা হচ্ছে খোলাখুলি। এর ফলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন থেকে বাংলাদেশের সেনাদের ফেরত আসার খবর শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ব্যর্থতারও প্রতিফলন। এতে যেমন রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাজারো সেনা সদস্য ও তাদের পরিবার।

প্রসিকিউশন বনাম সেনাবাহিনীর এই সংঘাত আসলে একটি গভীর প্রশাসনিক অচলাবস্থার লক্ষণ। সরকারের নীতি নির্ধারণে অস্পষ্টতা, কূটনীতিতে দুর্বলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিহিংসামূলক মনোভাব—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের দ্বৈত শক্তির দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

এই মুখোমুখি অবস্থান কোনোভাবেই জাতির জন্য শুভ নয়। রাষ্ট্র যখন নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার শত্রু দরজার বাইরে নয়, ভেতরেই জন্ম নেয়।

আজ বাংলাদেশের প্রয়োজন সংযম, সংলাপ ও সমঝোতা। সেনাবাহিনীকে শত্রু হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের স্তম্ভ হিসেবে সম্মান জানানো—এটি সরকারের রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরীক্ষা। আইনের প্রয়োগ যদি অহংকারের রূপ নেয়, আর শৃঙ্খলা যদি প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হয়, তাহলে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিই ভেঙে পড়বে।