অনলাইন ডেস্ক :: রাষ্ট্রের মুখপাত্রের পদটি শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি নৈতিকতারও প্রতীক। কিন্তু সেই মর্যাদাপূর্ণ আসন যখন ব্যক্তিগত লোভ, উগ্র চিন্তা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, তখন সত্য হারিয়ে যায় ক্ষমতার গর্জনে। এমনই এক চিত্র ফুটে উঠছে বর্তমান প্রেস সচিব শফিকুল আলমের কার্যকলাপে যিনি রাষ্ট্রের তথ্য প্রবাহ নয়, বরং উগ্রতা ও দুর্নীতির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত।
এক সময় উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই ব্যক্তি হঠাৎ করেই রাষ্ট্রের অন্যতম সংবেদনশীল পদে বসে যান। তারপর থেকেই যেন পরিবর্তন শুরু। নীতির বদলে প্ররোচনা, যোগ্যতার বদলে আনুগত্য এই সূত্রেই গড়ে ওঠে তার প্রভাবশালী একচেটিয়া ক্ষমতার বলয়।
দেশের টেলিভিশন, অনলাইন পোর্টাল ও সংবাদপত্র সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে শফিকুলের একক কর্তৃত্ব। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিকদের চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাদের জায়গায় বসানো হয় জামাত-শিবির ও বিএনপি ঘেঁষা কিছু অনভিজ্ঞ কর্মী। মিডিয়ার ভাষা বদলে যায়, সত্যের জায়গায় বসে যায় তোষামোদ, প্রশ্নের জায়গা দখল করে নেয় ভয়।
আজ সংবাদপত্রের কলাম নয়, প্রেস সচিবের কণ্ঠই ঠিক করে দেয় কোন সংবাদ প্রচার হবে, কোনটি চাপা থাকবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেন গিলে ফেলেছে এক অদৃশ্য উগ্রপন্থী হাত। মিডিয়া, যা একসময় ছিল জনগণের আয়না তা আজ এক ব্যক্তির ব্যবসায়িক ক্ষেত্র।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠেছে, শফিকুল আলম শুধু তথ্য নয়, অর্থের প্রবাহও নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। পদ্মাসেতুর টোল আদায় থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্প—সবখানেই রয়েছে তার গোপন ভাগবাটোয়ারা। জানা গেছে, প্রতিদিন টোল আদায় কেন্দ্র থেকে কোটি টাকারও বেশি নগদ অর্থ ভাগ নেওয়া হয় তার নির্দেশে। ঘনিষ্ঠ মহলের তদবীর, চাঁদাবাজি ও কমিশনের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন প্রায় এক হাজার কোটি টাকার এক গোপন সাম্রাজ্য।
এই প্রশাসনিক চক্র আজ পরিণত হয়েছে এক নীরব দুর্নীতির যন্ত্রে। রাষ্ট্রের মর্যাদার পদটি যেন পরিণত হয়েছে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক দপ্তরে। ফলে প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্রের মুখপাত্র আজ কি রাষ্ট্রের মুখোশে লুকিয়ে থাকা এক ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রহরী?
শফিকুল আলমের এই উত্থান কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি নৈতিক অবক্ষয়েরও প্রতীক। এমন এক মানসিকতা, যা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। নীতি, সততা ও দায়িত্ববোধের পরিবর্তে যদি লোভ, পক্ষপাত ও উগ্রতা প্রাধান্য পায়—তবে শুধু গণমাধ্যম নয়, গণতন্ত্রের প্রাণও শুকিয়ে যাবে।
দেশের মানুষ আজ অপেক্ষা করছে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় কি এই অনিয়মের বিরুদ্ধে জাগ্রত হবে, নাকি নীরবতার দেয়াল আরও উঁচু হবে?
কারণ ইতিহাস সাক্ষী ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু দুর্নীতি ও উগ্রতার দাগ চিরস্থায়ী।
অবৈধ সরকারের অনুগত নিয়োগ সব অবৈধ হবে , অবৈধ সকল সুবিধাফেরত দিতে হবে এমন সময়ের জন্য শফিককে প্রস্তুত থাকতে বলছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিকরা।