নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতি আজ আবারও দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চয়তার মোড়ে। নানা কূটনৈতিক তৎপরতা, আন্তর্জাতিক বার্তা এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্য দিয়ে দেশ এখন অপেক্ষা করছে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার। প্রশ্ন উঠছে—ফেব্রুয়ারিতে কি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, নাকি তার আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনুস বিদায় নেবেন?
ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার সময় অনেকেই আশা করেছিলেন—এটি হবে একটি নিরপেক্ষ, দলনিরপেক্ষ ও আস্থাজাগানিয়া উদ্যোগ। দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্লান্ত জনগণ তখন নতুন সূচনার প্রত্যাশা করেছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশার বাতি ম্লান হয়ে এসেছে। প্রশাসনিক অচলাবস্থা, সিদ্ধান্তহীনতা, এবং অর্থনীতিতে স্থবিরতা—সবকিছু মিলিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি এখন প্রশ্নবিদ্ধ। দলীয় অংশগ্রহণহীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্নতার অভিযোগও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
বিদেশি কূটনৈতিক মহল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—বাংলাদেশে টেকসই স্থিতি ফিরবে কেবল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত না করলে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ উভয়ই বাধাগ্রস্ত হবে—এমন সতর্কবার্তাও এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ডিসেম্বর মাসকে অনেক বিশ্লেষক দেখছেন রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনের সময় হিসেবে। আলোচনায় আছে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বা আঞ্চলিক সমর্থনে ডিসেম্বরেই শুরু হতে পারে ইউনুস সরকারের বিদায়ের প্রক্রিয়া। এতে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হতে পারে।
কিন্তু এখানেই প্রশ্ন—দেশ কি আবারও একাধিক অন্তর্বর্তী সরকারের পরীক্ষায় নামবে? এমন একটি পরিস্থিতি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের আস্থা ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
এখন জরুরি একটি স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য রোডম্যাপ, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ, এবং আন্তর্জাতিক আস্থার পুনর্গঠন নিশ্চিত করা হবে। এই রোডম্যাপই হতে পারে রাষ্ট্রের নতুন দিকনির্দেশনা।
ড. ইউনুস যদি সত্যিই গণতন্ত্র, ন্যায্যতা ও অংশগ্রহণের চেতনায় বিশ্বাসী হন, তবে ডিসেম্বরই হতে পারে তাঁর সম্মানজনক বিদায়ের উপযুক্ত সময়। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষাই করবে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রারও নতুন দরজা খুলে দেবে।
ইউনুস বিদায়ের ছয় মাস পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে সেটি হতে পারে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনর্জন্মের সূচনা—যেখানে জনগণের কণ্ঠই হবে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র ভিত্তি।