বঙ্গবন্ধুর খুনিরা যেমন ইতিহাসে হারিয়ে গেছে, তেমনি হারাবে জুলাইয়ের ষড়যন্ত্রকারীরাও

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক রক্তঝরা ভোর, যখন বাংলাদেশ হারায় তার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল একদল সেনাসদস্য, একদল ষড়যন্ত্রকারী, যাদের পেছনে ছিল কথিত “সমন্বয়কারীদের” ভয়ংকর নেটওয়ার্ক। খন্দকার মোশতাক সেই ষড়যন্ত্রের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে গদিতে বসে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য অপপ্রচার চালিয়েছিল এ হত্যাকাণ্ডকে আখ্যা দিয়েছিল “আগস্ট বিপ্লব”, খুনিদের বলেছিল “জাতির সূর্যসন্তান”।

কিন্তু ইতিহাস কি কাউকে ক্ষমা করে? করেনি। বরং সময়ের সাথে সাথে একে একে উন্মোচিত হয়েছে প্রতিটি কুৎসিত মুখোশ। খুনিদের বিচার হয়েছে, ইতিহাস তাদের ন্যায্য স্থান দিয়েছে ঘৃণার আস্তাকুঁড়ে।
২০২৪ বাংলাদেশের ওপর নেমে এসেছিলো আরেক নতুন ষড়যন্ত্রের ছায়া। আবারও একদল অপরাধী নিজেদের বলছে “জুলাইয়ের যোদ্ধা”। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নামে শুরু হয়েছে দেশজুড়ে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ হত্যা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা যা ইতিহাসের চোখে রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাস ছাড়া কিছুই নয়। থানাঘর জ্বলে পুড়েছে, নিরীহ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে, দেশের অর্থনীতি রক্তক্ষরণে ডুবে গেছে।

এই তথাকথিত “আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা” আজ নিজেদের দাবি করছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াকু। যেমন মোশতাক বলেছিল, “দেশ বাঁচাতে আগস্ট বিপ্লব করেছিলাম” এ আজকের পুনরাবৃত্তি।
এরা কেউই ভুলে যাচ্ছে না যে, ইতিহাস নিজের পথে হাঁটে, আর অন্যায়কারীদের জন্য সে পথের নাম হয় “নিন্দা”।

জুলাই-আগস্টে যারা শেখ হাসিনার নির্বাচিত সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দিলো, তারা শুধু একটি সরকার নয়, থামিয়ে দিলো একটি জাতির উন্নয়নের প্রবাহ। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন, দরিদ্রের মুখে হাসি সবকিছু ম্লান হয়ে গেছে ইউনুস সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তে।
দেশের অর্থনীতির হৃদস্পন্দন যেন আজ থেমে গেছে। ঘরে ঘরে হাহাকার, বাজারে আগুন, যুবসমাজে হতাশা।

একদিন যে জাতি মাথা উঁচু করে পরিশ্রম করত, ভাগ্য বদলের লড়াই করত, আজ তারা ফের সেই দারিদ্র্যের চোরাবালিতে।
কৃষকের চোখে কান্না, রিকশাওয়ালার মুখে নীরব ক্ষোভ, মায়েদের হাতে খাবার নেই, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া অনিশ্চিত।
সব কিছু যেন জুলাই-আগস্টের সেই মিথ্যা বিপ্লবের বিষাক্ত ফসল।

তবুও আশার আলো একটাই বাংলাদেশের মানুষ অতীতে ভুলেনি, এবারও ভুলবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলার মানুষ আরেকবার ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে বের হবে। এই অপশক্তি যেমন আগস্টে পরাজিত হয়েছিল, তেমনি এবারও ইতিহাস তাদের হারিয়ে দেবে।

*কারণ, ইতিহাস ক্ষমা করে না। প্রতিশোধ নেয় নিজেই।*
*এটাই পঁচাত্তরের শিক্ষা, এটাই ২০২৪-এর সংকেত*।