ঢাকা, অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক এক ভাষণে বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের জন্য ‘বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবেশদ্বার’ হিসেবে উল্লেখ করে নেপাল, ভুটান এবং উত্তর–পূর্ব ভারতের অঞ্চলগুলোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারক মহলে কিছু আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইউনূস তাঁর বক্তব্যে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সংযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিলেও উত্তর–পূর্ব ভারতের অঞ্চলগুলো যে ভারতের অংশ—এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণেই দিল্লিতে কিছু মহলে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও সংযোগের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই সাব-রিজিওনাল সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (BBIN) উদ্যোগ, বিমসটেক (BIMSTEC) এবং বিভিন্ন উপ-আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রায়ই ট্রানজিট, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সংযোগের সম্ভাবনা তুলে ধরে থাকে। নীতিনির্ধারকদের মতে, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বন্দর ও লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহার করে স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর জন্য সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার সহজ করা—এই কৌশলের অংশ হিসেবেই এমন বক্তব্য এসেছে।
অন্যদিকে ভারত ইতিমধ্যেই তার উত্তর–পূর্বাঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন জোরদার করেছে। বন্দর, রেল ও সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ওই অঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটেও সক্রিয় করার কৌশল নিয়েছে দিল্লি। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা—দুই প্রবণতাই একসঙ্গে এগোচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগের প্রশ্নটি সংবেদনশীল হলেও তা সম্ভাবনাময়। ভবিষ্যতে পারস্পরিক সমন্বয়, আস্থা ও স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমেই এ ধরনের বিষয়গুলো পরিচালিত হবে।