নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশ এক সময় ছিল সবুজের দেশ নদীমাতার কোল ঘেঁষে তৈরি ধানক্ষেত, পাহাড়ের ছায়ায় বনভুমি, আর উর্বর মাটির ওপর গড়া গ্রাম-শহর। কিন্তু আজ সেই সবুজ ক্যানভাস ফাঁকে ফাঁকে ফুটে উঠছে ধ্বংসের আলামত। বন উজাড়, পাহাড় কাটাছেঁড়ায় রাখঢাক নেই, নদীর বুকে বালু উত্তোলন ও তীরভাঙন এসব কেবল প্রাকৃতিক ক্ষতি নয় এগুলো দেশের ভবিষ্যৎ, মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর আঘাত।
এই ভয়াবহ চিত্রের পেছনে সক্রিয় আছে লুটের সিন্ডিকেটগুলো স্থানীয় নালিশের কাগজে নাম উঠে না উঠুক, বাস্তবে গ্রাম থেকে শহর সবখানেই মানুষ তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে। রাতের আঁধারে ট্রাকভর্তি পাথর, বালু ও কাটা কাঠ পাচার হচ্ছে; প্রশাসনিক নিষেধ অমান্য করে অবৈধ খনি ও কোয়ারি চলে। যার ফল নদী ঝরছে, ক্ষেতে জল হবে না, গ্রামবাসী ঘর হারাবে।
আবহাওয়া, পরিবেশ অথবা অর্থ—যে কোন দিকেই দেখো ক্ষতির শেষ নেই। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো সমাজের আস্থা ও আইনের ওপর আস্থা নষ্ট হওয়া। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যখন কেউ প্রশাসন ও স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের ব্যবহার করে সম্পদ লুটে নেয়, তখন ন্যায়বিচারও হারিয়ে যায়। মানুষ আর চুপ করে নেই—কৃষক, মৎস্যজীবী, ছাত্র, শ্রমিক—সবাই একক কণ্ঠে বলছে: দেশের সম্পদ লুটে খাওয়ার অপরাধীদের বিচার চাই।
বিচারের দাবি শুধু শাস্তি নয়; এটা দেশের স্বাভাবিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। দোষীদের সম্পদ সংকুলান ও পুনর্বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কার্যকর পরিকল্পনা, এবং অপরাধমূলক সিন্ডিকেট ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এসবই ন্যায়বিচারের অংশ। প্রশাসন যদি স্বাধীনভাবে তদন্ত করে, মিডিয়া যদি সত্য উদঘাটন করে, এবং আদালত যদি দ্রুত ন্যায্য রায় দেয়—তবেই জনগণের ক্ষোভ সঠিকভাবে নেতৃত্ব পাবে।
এ লড়াই রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার বাইরে; এটা দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যদি আমরা এখনই না থামাতে পারি, আগামী প্রজন্ম পাবে এক মরুকাব্য নদীমুক্ত, বনহীন, উৎপাদনশূন্য বাংলাদেশ। তাই সরকার, নাগরিক সমাজ ও প্রতিটি সচেতন নাগরিকের ওপর একই দায়িত্ব—বন-মাটি-নদী রক্ষা করা, লুটের জাল ভাঙা, এবং যারা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তাদের বিচারের মুখে আনা।
জনগণের চিৎকার আজ কেবল শব্দ নয় এটি ন্যায়চাহিদার একটি অনিবার্য ডাক। বিচার না হলে শান্তি নেই বিচার না হলে ভবিষ্যৎ নেই। তাই এখনই সময়: দেশের সম্পদ রক্ষা করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো নয়তো আমরা সবাই হারাবো।