বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের চরম বিপর্যয়,ডেঙ্গুতে আশঙ্কাজনক মৃত্যু মিছিল

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত আজ অভূতপূর্ব সংকটে নিমজ্জিত। করোনা মহামারির ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই নতুন করে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার দেশজুড়ে জনস্বাস্থ্যকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শুধু করোনা বা ডেঙ্গুই নয় এমন সব অচেনা ও নতুন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, যেগুলোর নামও সাধারণ মানুষ আগে কখনো শোনেনি। অথচ কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার, নেই মানসম্মত ওষুধ।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা এখন ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল, আর বেসরকারি হাসপাতালগুলো রীতিমতো কশাইখানায় পরিণত হয়েছে। যেখানে খরচ আকাশছোঁয়া, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব। ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করলেও চিকিৎসা পাওয়ার মতো সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫৬ জন রোগী। দেশের বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেটসহ প্রায় সব অঞ্চলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।

এই পরিসংখ্যান কেবল একটি রোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত কি আদৌ এমন সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুত? উত্তর সবার জানা না। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে চলছে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, গুণগত মানহীন ওষুধ উৎপাদন, ডাক্তার সংকট ও হাসপাতালের নিম্নমানের সেবা। এর ফলেই আজ পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো বর্তমান অনির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়। তাই তারা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না, বরং উদাসীন অবস্থান নিচ্ছে। সরকারি উদাসীনতা ও ব্যর্থতার কারণে স্বাস্থ্য খাতের ভয়াবহ বিপর্যয় এখন সরাসরি জনগণের জীবনের ওপর আঘাত হানছে।

বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার—স্বাস্থ্যসেবা—আজ চরম হুমকির মুখে। যদি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ডেঙ্গু কিংবা অন্য রোগের প্রকোপে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।