দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সহিংসতা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশে এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সরকারের নিবন্ধিত অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোতে জঙ্গিবিরোধী খবর প্রচারে নিরুৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে কঠোর চাপ রয়েছে।
কেউ জঙ্গিবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সংঘবদ্ধ প্রতিক্রিয়া বা ‘মব অ্যাকশন’ দেখা যায় যার উদাহরণ হিসেবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে জঙ্গিগোষ্ঠীর জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে। দেশীয় জঙ্গিদের পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুরস্ক-সংযুক্ত চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী আরসা।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দেশে প্রতিদিন সহিংস ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে এবং এসব ঘটনায় গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তবে এসব ঘটনার বড় অংশই গণমাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
এই প্রেক্ষাপটে ভারত বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিবারগুলোকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে আরও কয়েকটি দেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হত্যার ঘটনা ঘটছে।
এসব হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।