দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে—এমন অভিযোগে উদ্বেগ ছড়িয়েছে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ মায়মুন, যিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ২০১৪–২০১৫ সালের সময়কালে আবদুল্লাহ মায়মুন আল-কায়েদার কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। সে সময় তিনি ‘হানীন ইলদারম’ ছদ্মনামে উগ্রবাদী লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আল-কায়েদার অনলাইন ফোরাম ‘দাওয়াহ ইলাল্লাহ’-এর সদস্য ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে আল-কায়েদার অভ্যন্তরীণ কাঠামোর অংশ হিসেবে গঠিত ‘শারকিয়া’ নামের একটি সংগঠনে তিনি যুক্ত হন বলে জানা গেছে। সূত্র অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অংশগ্রহণের সময় তার ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল—যা পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বক্তব্যে বলেন,
“বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই।”
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, বর্তমানে দেশের কারাগার বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে কোনো সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন কার্যক্রম চালাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অতীতে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি এখন স্বাভাবিক নাগরিক জীবনে ফিরে এসেছেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, প্রাক্তন আল-কায়েদা সদস্যদের মুক্তি জনমনে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে অভিযোগ উঠেছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের কেউ কেউ রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিসরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কেবল জনসচেতনতা যথেষ্ট নয়। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা দুর্বল হলে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক পুনরায় বিস্তার লাভ করতে পারে।
একাধিক সূত্রের দাবি, ২০০১ সালের দিকে বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজার আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সদস্য সক্রিয় ছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে অধিকাংশ সদস্য গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি থাকায় সংগঠনটির কার্যক্রম কার্যত নিয়ন্ত্রণে ছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগে গত প্রায় ১৫ মাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জঙ্গি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণের তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো আরও অভিযোগ করেছে, আল-কায়েদার সঙ্গে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর একটি অংশ, কুকি-চিন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার কিছু অংশের সমন্বয়ের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো সরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা—এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি ভবিষ্যতে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।