বাজেটের টাকা কোথায় গেল, ইউনুস প্রতিষ্ঠানের ১২ হাজার কোটি টাকার লেনদেনে উঠছে প্রশ্ন

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বাজেট বরাদ্দের নির্দিষ্ট অংশ থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইউনুসের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রবাহিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর অর্থনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, রাষ্ট্রীয় বাজেটের টাকা জনগণের উন্নয়ন, অবকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় হওয়ার কথা। সেখানে কোনো বেসরকারি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের অনিয়মিত আর্থিক সুবিধা পাওয়া গুরুতর নৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নের জন্ম দেয়।

অর্থনীতিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম মনে করেন, “যদি সত্যিই বাজেটের অর্থ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বণ্টিত হয়ে থাকে, তবে এটি হবে বাজেট ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ব্যর্থতা এবং স্বচ্ছতা নষ্টের উদাহরণ।”

অন্যদিকে, এনবিআরের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, বিষয়টি “গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।” তাদের ভাষায়, “কিছু বরাদ্দ প্রকল্পভিত্তিক খাতে গিয়েছে—কিন্তু কীভাবে এবং কার অনুমোদনে তা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।”

এনবিআরের একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “নীতিগত সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রায়ই সরকারি বাজেটের কিছু অংশ নিজেদের প্রকল্পে স্থানান্তর করতে সক্ষম হন। এর বেশিরভাগই বৈধভাবে হয় না।”

অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়া এই অর্থনৈতিক রহস্যের পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। তারা মনে করেন, সরকার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় অডিট বিভাগ একসঙ্গে অনুসন্ধান চালালে তবেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং জনমনে আস্থা ফিরবে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউনুসের প্রতিষ্ঠানের কর-সুবিধা, বিদেশি অনুদান ও সরকারি প্রকল্পে সম্পৃক্ততা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন উঠেছে, তা উপেক্ষা করলে রাষ্ট্রীয় আর্থিক শৃঙ্খলা ও নীতিনির্ধারণে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, “নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে। বাজেটের টাকা কীভাবে, কার মাধ্যমে এবং কোন অনুমোদনে গিয়েছে—সব কিছুই তখন পরিষ্কার হয়ে যাবে।”