বিএনপি আজ বিভ্রান্তির প্রতীক, ফখরুলের সুবিধাবাদী রাজনীতির চিহ্ন

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি আজ সেই দিকাহীন ও অসংগঠিত শক্তির প্রতীক, যার নেতৃত্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলে আরও বিভ্রান্তি এবং অস্পষ্টতা ছড়িয়েছেন। এক সময় দলের মুখপাত্র হিসেবে ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য রাখলেও, এখন তার কথাবার্তায় ধোঁয়াশা, দ্বিমুখিতা ও সুবিধাবাদ স্পষ্ট। এই দিকবিদিকহীন রাজনীতি বিএনপিকে ক্রমশ দেউলিয়া করছে—নৈতিক ও রাজনৈতিক উভয়ভাবে।

ফখরুল একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলেন, অন্যদিকে অঘোষিতভাবে বিদেশি হস্তক্ষেপে সমর্থনের ইঙ্গিত দেন। কখনো বিদেশি হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানান, আবার বলেন “বিদেশের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।” এই দোদুল্যমান অবস্থান দলের ভেতরই বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে এবং বিএনপিকে মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

দলের নেতৃত্বও সংকটে আছে। ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপি একদিকে জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক শক্তিকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে গণতন্ত্র ও উদারনীতির কথা বলছে। এই সাংঘর্ষিক অবস্থান দলের আদর্শিক ভিত্তি নষ্ট করেছে। দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করা আর দলের অস্তিত্ব সংরক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে।

মধ্যবিত্ত, পেশাজীবী ও শিক্ষিত শ্রেণি এখন দলের সঙ্গে নেই। তারা দেখছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু নিজস্ব সুবিধা বা বিদেশি স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তৃণমূল হতাশ, কারণ তাদের সংগ্রাম ব্যবহৃত হচ্ছে রাজনৈতিক নাটক সাজানোর জন্য, তার ফল ভোগ করছে নেতা-সিন্ডিকেট।

ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী দলের মর্যাদা অর্জন করেছে। অবৈধ ইউনুস সরকারকে বৈধতা দান, সংবিধানবিরোধী অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অবমূল্যায়ন—সবই দলের সমর্থনের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। নেতৃত্বের দ্বিচারিতা ও অপ্রতিষ্ঠানিক রাজনীতির কারণে বিএনপি আজ অপরাজনীতির এক নিদর্শন।

মির্জা ফখরুলের সুবিধাবাদী, দিকাহীন রাজনীতি বিএনপিকে আদর্শহীন করে তুলেছে। যেখানে দলের দায়িত্ব ছিল দেশের গণতান্ত্রিক স্বার্থ ও ইতিহাস রক্ষা করা, সেখানে তারা নিজেদের স্বার্থ ও নেতার সুবিধা কল্পিত আদর্শের আড়ালে লুকিয়েছে। এই রাজনীতির ফলশ্রুতিতে বিএনপি এখন নীতিহীন, বিভ্রান্ত ও সমালোচিত রাজনৈতিক শক্তি, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে হয়তো লেখা হবে—মির্জা ফখরুল ছিলেন সেই নেতা, যিনি নিজের দিকবিদিকহীন, সুবিধাবাদী এবং অপ্রতিষ্ঠানিক রাজনীতি চালিয়ে বিএনপিকে দেউলিয়ার দিকে ধাবিত করেছেন।