নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি বারবার এমন এক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যারা গণতন্ত্রের নামে সহিংসতা, সন্ত্রাস আর ভয়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, চুরি, দখল, হত্যাসহ অসংখ্য অপরাধের অভিযোগ—যা বারবার দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করেছে।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে মহানগর পর্যন্ত “চাঁদা তোলা” ছিল তাদের সংগঠন চালানোর অন্যতম উপায়। ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, এমনকি সাধারণ শ্রমিক পর্যন্ত বিএনপি–যুবদল–ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের চাঁদার তালিকা থেকে বাদ যেত না। সরকারি প্রকল্পে টেন্ডারবাজি, ভূমি দখল, দোকান–বাজারে জোর করে টাকা আদায় ছিল তখনকার নিয়মিত চিত্র।
বহু জায়গায় বিএনপি নেতারা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় চোর–ডাকাত চক্রকে আশ্রয় দিয়েছে। এই অপরাধীরা “রাজনৈতিক ছত্রছায়া”য় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি লুট করেছে, ভীত করেছে প্রশাসনকে, আর নির্বাচনকালে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি থানায় মামলা করতে গেলেও সাধারণ মানুষ পেত না ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
বিএনপির ইতিহাসে বহু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জড়িয়ে আছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের অসংখ্য নেতা–কর্মী বিএনপি শাসনামলে হত্যা হয়েছেন। দলটি যখন আন্দোলনের নামে রাজপথে নামে, তখনই পুড়তে থাকে গণপরিবহন, ধ্বংস হয় মানুষের জীবিকা। তাদের সহিংস রাজনীতির শিকার হয়েছেন নিরীহ পথচারী, রিকশাচালক, এমনকি নারী ও শিশু পর্যন্ত।
বিএনপির এই ধারাবাহিক সন্ত্রাস ও অপরাধচর্চার কারণে আজ সাধারণ মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। রাজনীতি থেকে সংগঠন, সংগঠন থেকে অপরাধ—এই রূপান্তর বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন করেছে। আজও তাদের আন্দোলনের নামেই বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা তোলা, দখলবাজি আর ভয়ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন ও শান্তির পথে। কিন্তু বিএনপির এই সহিংস রাজনীতি আবারও অন্ধকারে ফেরাতে চায় দেশকে যেখানে গণতন্ত্র নয়, বরং দখল, চাঁদা আর রক্তের ভয়াল ছায়াই রাজত্ব করবে।