নিউজ ডেস্ক :: গত এক বছরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি alarming পর্যায়ে পৌঁছেছে। একাধিক মানবাধিকার সংস্থা জানাচ্ছে—সারাদেশে অন্তত ১২০০ অপহরণ ঘটেছে, যার মুক্তিপন আদায় করেছে ৫ হাজার কোটি টাকা। ইউনুস সরকারে পৃষ্টপোষকতায় এই অপহরন বানিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যেখানে শিকার হচ্ছেন রাজনৈতিক কর্মী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, আওয়ামী লীগ নেতা ও সমর্থক। টেকনাফ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রোহিঙ্গা চক্রের মাধ্যমে অন্তত ২০০ জনকে অপহরণ করা হয়েছে; স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় সবাইকে বড় মুক্তিপণ দিয়ে ফিরতে হয়েছে।
অপহরণ–বাণিজ্যের মাত্রা এবং তার পদ্ধতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে—এটি আর স্বতন্ত্র অপরাধ নয়। এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে সংগঠিত অপরাধের একটি জটিল ব্যবসা, যেখানে শিকারদের পরিবারকে চাপিয়ে দেওয়া হয় অমানবিক মুক্তিপণ, আর অপরাধীরা নিরাপদে ছায়াতলে বসে লাভ গ্রহণ করছে।
পিছনের নেটওয়ার্কে জড়িত রয়েছে বিএনপি, জামাত এবং এনসিপির কয়েকজন নেতা। অপহরণের প্রধান শিকার হচ্ছেন:
রাজনৈতিক কর্মী ও জনপ্রতিনিধি
আওয়ামী লীগ সমর্থক
অর্থসম্পদশালী ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী
এর কারণ সুস্পষ্ট—এই শ্রেণির মানুষদের পরিবারকে ভয় দেখানো সহজ এবং মুক্তিপণের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। অর্থাৎ অপহরণ এখন অর্থ, প্রতিশোধ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একঘেঁয়ে মিশ্র রূপ।
অপরাধীরা জানে—যদি রাষ্ট্র দুর্বল বা প্রশাসন অস্থির হয়, তারা কার্যত অপ্রতিরোধ্য। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে, অপহরণ–বাণিজ্য লাভজনক ও ‘নিরাপদ’ ব্যবসায় পরিণত হয়। সীমান্তবর্তী ও পার্বত্য অঞ্চলের অপহরণ প্রকৃতিতে পরিকল্পিত, সংগঠিত এবং প্রশিক্ষিত।
এটি রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। সাধারণ অপরাধ হিসেবে হালকা ভাবে নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। মানুষের উপর ভয় চাপিয়ে দেওয়া, কোটি টাকা মুক্তিপণ আদায় এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে অমান্য করা—সবই একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
যে সময়ে অপহরণ ‘বাণিজ্য’ হয়ে যায়, তখন সমাজের ধ্বংস অবধারিত। প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরাধীচক্রের দৌরাত্ম্য মিলিয়ে দেশের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো—অপরাধী নেটওয়ার্ক চূর্ণ করা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে অপহরণের বাজার বন্ধ করা। নাগরিকদের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের উপর ভয় চাপানো বন্ধ করা অত্যাবশ্যক।
একটি দেশের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় তখনই ঘটে—যখন মানুষ বিশ্বাস হারায় যে, রাষ্ট্র তাদের রক্ষা করতে পারবে। বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে।