নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সময় “বিএনপি” নামটি ছিল আন্দোলনের প্রতীক, গণতন্ত্রের মুখপাত্র। আজ সেই নামই অনেকের কাছে ঠাট্টা ও কৌতুকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটি যেন হারিয়েছে আদর্শ, পেয়েছে নতুন পরিচয়—লোপাট আর তদবীরবাজদের ঠিকানা।
রাজনীতি এক সময় ছিল ত্যাগের, আজ তা পরিণত হয়েছে টাকার খেলায়। বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকেই শুরু হয়েছে এই লেনদেন সংস্কৃতি। একদিকে কথায় কথায় “গণতন্ত্র উদ্ধার”-এর ডাক, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে তদবীর, পদবাণিজ্য আর নগদ অর্থের ঘূর্ণি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসা এখন রাজনীতির চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে তদবীরবাজদের আনাগোনায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নাকি চলে ফাইল, ফোনকল আর মোটা খামের আদান-প্রদান। কেউ পদ চান, কেউ টেন্ডার চান, কেউ আবার বিদেশি সংস্থার প্রশংসাপত্র—সবকিছুরই “দর” নির্ধারিত। যেন রাজনীতি নয়, “সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি”!
দলের ভেতরে যেমন আদর্শ হারিয়েছে, তেমনি হারিয়েছে জবাবদিহিতা। নেতা-কর্মীরা এখন দু’ভাগে বিভক্ত একদল ‘কমিশনভোগী’, আরেকদল ‘কমিশনবঞ্চিত’। যারা পয়সা ঢালতে পারে, তারাই “আন্দোলনের নেতৃত্ব” পায়। যাদের কাছে টাকার গন্ধ নেই, তারা কেবল স্লোগানের ভিড়ে হারিয়ে যায়।
বিএনপির এই রূপান্তর আসলে দেশের রাজনীতির এক করুণ প্রতিচ্ছবি। যেখানে নেতৃত্ব অর্থে বিক্রি হয়, তদবীর হয় পদে, আর আদর্শ হয় বেচাকেনার উপকরণ।
রাজনীতি যদি হয় নীতিহীন, তবে দল হয় অর্থকেন্দ্রিক আর বিএনপি আজ সেই রোগে আক্রান্ত।
এক সময় দেশের মানুষ বিশ্বাস করত, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র ফিরবে। কিন্তু এখন অনেকে মনে করেন, বিএনপি ফিরলে শুধু পুরনো চক্রের “তদবীর বাজার”ই নতুন করে খুলবে। রাজনীতি নয়, সেখানে থাকবে কমিশন, প্রভাব আর নগদ হিসাব।
বলা যায়, বিএনপি আজ এক প্রকার ‘রাজনৈতিক কর্পোরেট হাউস’, যেখানে নীতির জায়গায় বসেছে লেনদেন, আর আন্দোলনের জায়গা নিয়েছে লাভক্ষতি।
আদর্শের ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে, কিন্তু টাকার ব্যাংক জমে উঠেছে প্রবলভাবে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই যে দল নিজের ভেতরের লোপাট ঠেকাতে পারে না, তারা কি দেশের নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখতে পারে?
তাই আজ রসিকতার ছলে মানুষ বলে
বিএনপি মানে বাংলাদেশ নয়,
লোপাট অ্যান্ড পার্টনার্স লিমিটেড!
যেখানে রাজনীতি নয়,
লেনদেনই হলো মূল নীতি।”