নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ব্যারিস্টার শফিউল আলম মাহমুদকে ঘিরে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও জনআস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
জনগণের মধ্যে আলোচনা—যে ব্যক্তি একসময় জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, তিনি আজ সেই একই ঘটনার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক ধারণার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? প্রকাশ্যে মিছিল, সমাবেশ বা আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো নাগরিকের অধিকারবলে ক্ষুণ্ণ করা যায় না, কিন্তু যখন সেই ব্যক্তি বিচারকের আসনে বসেন, তখন সমাজ স্বাভাবিকভাবেই নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা খোঁজে।
বিচারব্যবস্থার ভিত্তি হলো আস্থা। জনগণ বিশ্বাস করতে চায়—বিচারকের কাছে দল, মত, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অতীত রাজনৈতিক অবস্থান কোনো প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু যখন আদালতের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা পক্ষপাতের ছায়ায় ঢেকে যায়, তখন সেই আস্থা টলে ওঠে। আজ যে প্রশ্নটি আলোচিত—“এই আদালতে শেখ হাসিনা ন্যায়বিচার পাবেন কি না”—তা শুধু কোনো ব্যক্তির নয়, বরং গোটা বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলন।
একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও ন্যায়ের ভিত্তি টিকিয়ে রাখতে হলে বিচারব্যবস্থাকে হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। বিচারককে হতে হবে এমন এক ব্যক্তি, যার উপর জনমনে কোনো সন্দেহ থাকে না। কারণ আইন শুধু বিধান নয়—এটি নৈতিকতার প্রতীক। ন্যায়ের মঞ্চে বিচারকের আস্থাই জনগণের শেষ ভরসা।
বর্তমান বিতর্ক তাই শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। দেশের মানুষ এখন স্পষ্ট বার্তা চায়—বিচারালয় যেন আর রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয় না হয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।
ন্যায়বিচারের জন্য নিরপেক্ষতা যেমন অপরিহার্য, তেমনি বিচারক ও আদালতের প্রতি জনগণের বিশ্বাসই গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি। আর সেই বিশ্বাস পুনর্গঠনের দায়িত্ব আজ বিচারব্যবস্থারই।