বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জে বিএনপি নেতৃত্বে হত্যাযজ্ঞ, মামলায় রক্ষা পাচ্ছে হত্যার মূল হোতারা

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের অস্থির সময়ে দেশজুড়ে চলা সহিংসতার ঢেউ সিলেটেও পৌঁছায় ভয়াবহ রূপে। পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতার মতোই বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জে সংঘটিত হয় দুটি বিভীষিকাময় হামলা—যেখানে প্রাণ হারান নিরীহ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বিয়ানীবাজার থানায় হামলার দিনটিতে সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। দুপুর নাগাদ একটি সংগঠিত দল থানায় আক্রমণ চালায়। পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর একযোগে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা সরকারি অস্ত্র দখলেরও চেষ্টা চালায়। এই হত্যাযজ্ঞের নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, যিনি স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে আক্রমণ পরিচালনা করেন।

একই সময়ে গোলাপগঞ্জ থানায় ঘটে আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা। হামলাকারীরা থানার পাশের এলাকায় প্রবেশ করে আটজনকে ধরে নিয়ে পিঠিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও পুলিশ সদস্যরাও। তদন্তে উঠে আসে, এই হত্যাযজ্ঞের নেতৃত্ব দেন বর্তমান সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমেদ, যিনি একইভাবে যুবদল–ছাত্রদল–শিবির কর্মীদের সমন্বয়ে এ হামলার নির্দেশ দেন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এই দুই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত নেতৃত্বদানকারীদের নাম বাদ দিয়ে নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ফলে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে সত্য গোপন রেখে অপরাধীদের রক্ষা করা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে, যা বিচার ও ন্যায়বিচারের ধারণাকে কলঙ্কিত করছে।

বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের হত্যাযজ্ঞ আজ সিলেটের মানুষের কাছে এক শোকাবহ স্মৃতি। মুক্তিযুদ্ধের পর এভাবে মানুষ হত্যার দৃষ্টান্ত বিরল। প্রশ্ন উঠছে—কবে থামবে এই রাজনৈতিক প্রতিশোধের সংস্কৃতি, আর কবে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের মুখোমুখি হবে?