নিউজ ডেস্ক::
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থের সংঘাতে দেশটির সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। মার্কিন সামরিক বিমান ও যুদ্ধবিমানের অবতরণকে বৃহত্তর পরিকল্পনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া, যাদের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, তারা এ অবস্থার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এতে বাংলাদেশের স্বাধীন কূটনীতি সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষমতায় আসাকে অনেকেই ওয়াশিংটনের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মহলে তাকে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার অবস্থান দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ আরও বেশি মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া জামাত ও নবগঠিত এনসিপিকে সামনে এনে দেশটিকে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে এ পরীক্ষামূলক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে তরুণ প্রজন্ম বিভক্ত হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও ঝুঁকি স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা ব্লকের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে পোশাকশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার চীনের ঋণনির্ভরতা বাংলাদেশকে ঋণফাঁদে ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারালে রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়বে।
নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও নতুন হুমকি তৈরি হচ্ছে। মার্কিন উপস্থিতি বাড়লে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের টার্গেটে বাংলাদেশ পরিণত হতে পারে। মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিরতা ও বঙ্গোপসাগরে চীন-ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামরিক ও সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও জটিল করবে।
রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই প্রধান শক্তিকে কোণঠাসা করার ফলে গণতন্ত্র কার্যত সংকটে পড়েছে। বিদেশি শক্তিগুলো এই শূন্যতার সুযোগ নিচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেকে বিদেশি কৌশলের যন্ত্রে পরিণত না করে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা। এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—ভারত কি আবারও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে? নাকি দেশটি ধীরে ধীরে সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মতো অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাবে?