নিউজ ডেস্ক :: একসময় “বুদ্ধিজীবী” মানেই ছিল জাতির বিবেক। আজ সেই শব্দটাই ব্যঙ্গের প্রতীক। কারণ এখন অনেক তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর চিন্তা, বিশ্লেষণ, এমনকি বিবেকও যেন ডলারের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে।
তাদের কলম আর দেশের বাস্তবতা নয় চলে দাতাদের নির্দেশনায়। কোন সংস্থা কত ফান্ড দিচ্ছে, কোন এজেন্ডা বিদেশে জনপ্রিয় তাতেই নির্ধারিত হয় গবেষণার বিষয় ও বক্তব্যের দিকনির্দেশনা।
“মানবাধিকার”, “ধর্মীয় সহনশীলতা”, “গণতন্ত্র উন্নয়ন”—সবই এখন ফাইলের প্রজেক্ট কোড। প্রজেক্ট শেষ মানেই গবেষণা নয়, বরং ইনভয়েস জমা।
একসময় এই শ্রেণি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামত, আজ তারা ওয়েবিনারে বসে ফান্ডের পরিমাণ হিসাব করে। বিদেশি সংস্থা অনুদান দিলে “গবেষণার নতুন দিক” খুলে যায়, না দিলে বিষয়টি নাকি “বর্তমানে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়”।
তাদের মুখে এখনো প্রগতির বুলি, কিন্তু চোখে মুদ্রার ঝলক। আদর্শের জায়গা নিয়েছে অ্যাকাউন্ট নম্বর, নীতির জায়গায় প্রকল্পের বাজেট। বিবেকও যেন এক কনসালটেন্সি সার্ভিস ঘণ্টাভিত্তিক রেট ঠিক করা আছে!
এনজিও অফিসগুলোতে প্রতিদিন চলে সভা, কিন্তু সেখানে দেশের ভবিষ্যৎ নয়, বরং আলোচনা হয় “কোন ইস্যুতে দাতারা এবার ডলার ছড়াবে?”
কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলে,
দেশে যত সংকট, তত সম্ভাবনা—ফান্ডের!”
এমন সমাজে সত্য বলা অলাভজনক, মিথ্যা বলা লাভজনক। তাই অনেকেই সত্যকে ত্যাগ করে চুক্তিভিত্তিক চিন্তার চাকরি নিয়েছেন।
জনগণের মুখে এখন ব্যঙ্গ শোনা যায় বুদ্ধিজীবী এখন চিন্তা বিক্রি করে,
শুধু দরটা নির্ভর করে ডলারের রেটে।”
রাজনীতি যেমন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, তেমনি বুদ্ধিজীবিতাও আজ রূপ নিয়েছে পেশাগত বাণিজ্যে।
এটাই সেই যুগ, যেখানে চিন্তা নয় চিন্তার দামই নির্ধারণ করে প্রজ্ঞার মান।
আর ফরহাদ মাজহারের মতো “বুদ্ধিজীবীদের” বিবেক আজ সত্যিই ডলারের কাছে বন্ধক!