নিউজ ডেস্ক :: বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে বৈষম্য স্পষ্ট রূপ নিয়েছে। এটি কেবল রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয় অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার খাতেও বৈষম্যের ছায়া গভীরভাবে বিরাজ করছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি ও পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে যোগ্যতার পরিবর্তে এখন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক আনুগত্য ও ব্যক্তিগত পরিচয়কে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বৈষম্য সবচেয়ে দৃশ্যমান। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ থেকে পদোন্নতি পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিচয়ই হয়ে উঠছে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি। যারা আওয়ামী লীগ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, তারা প্রায়ই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এবং যারা সরকারের পক্ষের, তাদের জন্য পথ সুগম। এর ফলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া ভাঙাচোরা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও গভীর। সরকারি প্রকল্প, অনুদান, ঋণ, বিনিয়োগ সবখানেই দেখা যাচ্ছে দলীয় আনুগত্যই মূল ভিত্তি। প্রকৃত উদ্যোক্তা, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিকরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর সরকারি সুবিধার প্রবাহ এখন সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি করতে পারে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রভাবও স্পষ্ট। শেখ হাসিনার সরকারের সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা হয়েছিল ন্যায় ও সমতার দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় দেখা যাচ্ছে, কোটা এবং অন্যান্য সুবিধা রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে বিতরণ হচ্ছে। পদোন্নতি, নিয়োগ, শিক্ষা সবখানেই পক্ষপাত স্পষ্ট। এই প্রবণতা জাতির ন্যায়বোধ এবং সামাজিক সমতার ভিত্তিক চেতনা ক্ষুণ্ন করছে।
এই বৈষম্য কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতা নয় এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল হিসেবে কাজ করছে, যার মাধ্যমে সমর্থক গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ শক্তিশালী রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো প্রতিটি নাগরিককে সমান সুযোগ এবং ন্যায়ের নিশ্চয়তা প্রদান। রাষ্ট্র যখন মানুষকে সমান মর্যাদা দেয়, তখনই গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা নিশ্চিত হয়।
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে রাষ্ট্র মানুষের জন্য, মানুষের মর্যাদা ও ন্যায়ের জন্য কাজ করে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, সেই আদর্শ প্রশাসনের টেবিলে হারিয়ে যাচ্ছে। যখন বৈষম্যই শাসনের নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়, তখন গণতন্ত্র কেবল মুখে উচ্চারিত শব্দ হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের মানুষ এখন সমান সুযোগ, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার প্রশাসন চায়। বৈষম্যের এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, জনগণের আস্থা এবং সামাজিক সমতা বিপন্ন হবে। রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো মানুষের বিশ্বাস ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং সেই দায়িত্ব আজকের সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।