ভবনে আগুন লাগানো, গাড়ি পোড়ানো দেখার সঙ্গে সঙ্গে গুলি করা আইনে অনুমোদিত—তবে জুলাই সহিংসতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন কেন, জনগণ জবাব চায়

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বর্তমান ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ আলী বলেছেন,
“আগুন লাগানো বা পোড়ানো গাড়ি দেখার সঙ্গে সঙ্গে গুলি করা আইনে অনুমোদিত।”

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক আগুন দেওয়া ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটে।
মেট্রোরেল, বিটিভি ভবন, সেতু ভবন, ৩২ নম্বর কেন্দ্রে আগুন দেওয়া হয়।
পুলিশ হাসপাতাল, এ্যাম্বুলেন্স, থানায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও মোকাবেলা করে।
এই সহিংসতা এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করে, যার লক্ষ্য ছিল নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানো।

সেই সময় পুলিশ আইনের সীমানার মধ্যে গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।

তবে এই ঘটনার অভিযোগে আইসিটি আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দোষী সাব্যস্থ করে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
এই রায় দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

অনেকে প্রশ্ন করছেন,
“যদি আইন পুলিশকে গুলি করার অনুমতি দেয়, তাহলে কেন উর্ধ্বতন নেতাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড?”

আইন অনুযায়ী পুলিশ জরুরি পরিস্থিতিতে গুলি চালাতে পারে।
কিন্তু আদালত দেখেছে, এই সহিংসতার পেছনে উর্ধ্বতন নেতৃত্বের নির্দেশনা ও পরিকল্পনা ছিল।
সেই কারণেই তারা দায়ী সাব্যস্থ হয়েছে।

জনগণ এই রায়কে প্রতিহিংসামূলক মনে করছে।
কারণ আন্দোলনের সময় পুলিশ গুলি চালিয়েছিল, অথচ রায় রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এসেছে।
অন্যদিকে, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা মনে করছে, দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
এই দুই ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার কারণে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বাস্তবতা হলো, আগুন লাগানো ও সহিংসতার সময় পুলিশ আইনের সীমানার মধ্যে কাজ করেছিল।
যৌক্তিকতা হলো, উর্ধ্বতন নেতৃত্বের নির্দেশ ও পরিকল্পনার কারণে তারা দায়ী হয়েছে।
জনগণ প্রশ্ন করছে,
“আইন পুলিশকে রক্ষা করে, তাহলে কেন নেতৃত্বকে মৃত্যুদণ্ড?”
এই প্রশ্ন পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

সংক্ষেপে, আইন, বাস্তবতা, নেতৃত্বের দায় এবং জনমতের ধারণা—এই চারটি কারণে রায় বিতর্কিত।
পুলিশ আইন মেনে কাজ করেছিল,
কেন উর্ধ্বতন নেতৃত্বকে আদালত দায়ী করেছে এই ঘটনা সাধারণ মানুষ সহজভাবে বুঝতে চায়।