ভারতকে দূরে ঠেলে পাকিস্তানের দিকে, ইউনুস সরকারের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতি

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে, বিশেষত পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে। বিভিন্ন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক, শিল্পমালিক এবং বিশ্লেষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনুস সরকারের সাম্প্রতিক আচরণে একটি উদ্দেশ্যমূলক ভারতবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন পেশার কর্মীদের ওপর নাকি অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে—ভিসা নবায়নে বিলম্ব, ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনে জটিলতা, নতুন নিয়োগে মৌখিক বাধা এবং শিল্পমালিকদের ওপর ভারতীয় জনবল কমানোর চাপ—এসবই অভিযোগ। একই সঙ্গে ভারতীয় উৎসের কেমিক্যাল, পলিমার, রং এবং ফার্মা ইনপুটের আমদানিতে কঠোরতা, অতিরিক্ত যাচাই এবং উদ্দেশ্যমূলক বিলম্বের কথাও ব্যবসায়ীরা তুলে ধরছেন।

বাংলাদেশের শিল্প খাত বহু কাঁচামালের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই পদক্ষেপকে ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। অভিযোগকারীদের মতে, এই কঠোরতাগুলো কোনো লিখিত নীতি নয়, বরং প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োগ করা নীরব নির্দেশ, যা কার্যত ভারতবিরোধী অবস্থানকে রাষ্ট্রনীতির আকার দিচ্ছে। অন্যদিকে একই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা, কূটনৈতিক সৌজন্যে বৃদ্ধি, বাণিজ্য আলোচনার অস্বাভাবিক গতিশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে উষ্ণতা অনেকের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে—বাংলাদেশ কি আঞ্চলিক ভারসাম্য ভেঙে পাকিস্তানমুখী নতুন অবস্থানে সরে যাচ্ছে?

জনগণের মনোভাবও এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ ভারতকে নির্ভরশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করে, আর মাত্র ১০ ভাগ পাকিস্তানের প্রতি কোনোভাবে সমর্থন প্রকাশ করে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতি প্রশাসনের কঠোর মনোভাব এবং পাকিস্তানের প্রতি উষ্ণতা দেশের বৃহত্তর জনমত ও বাস্তবতার সঙ্গে সুস্পষ্ট বিরোধ তৈরি করছে। সমালোচকরা বলছেন, ইউনুস সরকারের Pakistan-leaning আচরণ শুধুমাত্র কূটনৈতিক পুনঃসমীকরণ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা অনুযায়ী, ভারতীয় কাঁচামাল এবং প্রযুক্তি সরবরাহে ব্যাঘাত উৎপাদন ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বিদেশি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। পররাষ্ট্রনীতিকে অলিখিত, অঘোষিত এবং প্রশাসনিক আচরণের ওপর নির্ভরশীল করার প্রবণতা যে কোনো রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রের অবস্থান অস্পষ্ট হয়, বিদেশি অংশীদাররা অবিশ্বাসে পড়ে, আর দেশীয় অর্থনীতি নীতি-অনিশ্চয়তার কারণে চাপের মুখে পড়ে। তাই বহু বিশ্লেষক ইতোমধ্যেই মন্তব্য করছেন, ইউনুস সরকারের বর্তমান পররাষ্ট্রনৈতিক আচরণ “ঘোষণা-বিহীন যুদ্ধনীতি”, যা আঞ্চলিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য দীর্ঘমেয়াদে গভীর ক্ষতির কারণ হতে পারে।