নিউজ ডেস্ক :: দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি বরাবরই জটিল ও সংবেদনশীল। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ গোয়েন্দা সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জঙ্গি সংগঠনগুলো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার নতুন ছক কষছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ইসলামিক স্টেট (আইএস), হিজবুত তাহরির, জেএমবি, হুজি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা (ULFA)-এর সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, যা “সেভেন সিস্টারস” নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল ভূগোলগতভাবে দুর্গম এবং নিরাপত্তা তৎপরতা তুলনামূলক দুর্বল। সেই সুযোগে জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তারের কৌশল নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই নতুন জোটের পেছনে কিছু রাজনৈতিক ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার ভূমিকা রয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, আজমি ও জিয়া—এই কয়েকজনের নাম গোপন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় মুক্ত পাওয়া কিছু আসামিও এই পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা মহলের মতে, এসব গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নয়; বরং বাংলাদেশকেও এক প্রকার অস্থিতিশীলতার ফাঁদে ফেলা। সীমান্তের দুই পাশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শের মেলবন্ধন ঘটলে তা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলবে।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, খোদা বক্স চৌধুরী ও জনপ্রশাসন সচিব গনির নামও সহযোগিতার তালিকায় শোনা যাচ্ছে—যদিও এসব অভিযোগের কোনো সরকারি নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সরকারের দায়িত্বশীল মহল এসব তথ্যকে ‘অযাচিত গুজব’ হিসেবে মন্তব্য করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের সমন্বিত জঙ্গি উদ্যোগ সফল হলে তা শুধুমাত্র বাংলাদেশ বা ভারতের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, গোয়েন্দা সমন্বয় ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি থাকলে এই হুমকি দ্রুত বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
তাদের মতে, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বৃদ্ধির। উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ শুধু কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয় এটি একটি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় পারস্পরিক বিশ্বাস ও তথ্য বিনিময়ই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। প্রধান উপদেষ্টা ড: ইউনুসের সেভেন সিস্টার নিয়ে নেগেটিভ মন্তব্য জঙ্গীদের উৎসাহিত করেছে।