ভোটের অঙ্কে অপরাধ বৈধতা পাচ্ছে? বিএনপির ৪ হাজার বহিস্কৃত নেতাকে আটক করার দাবি

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপরাধ ও ক্ষমতার সখ্য নতুন নয়। তবে নির্বাচন সামনে রেখে দখলবাজি, চাঁদাবাজি, হত্যা ও মব ভায়োলেন্সে অভিযুক্ত বিএনপির চার হাজার বহিস্কৃত নেতাকে পুনরায় দলে ফেরানোর উদ্যোগ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। এতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
গত দেড় বছরে দলীয় তদন্তে যাদের অপরাধ সংশ্লিষ্টতা চিহ্নিত করে বিএনপি নিজেই বহিস্কার করেছিল, তারাই এখন ভোটের অঙ্কে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। বহিস্কারই যেখানে অপরাধের স্বীকৃতি, সেখানে পুনর্বহাল কীভাবে নৈতিক বা আইনসম্মত হতে পারে—এই প্রশ্নই তুলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় আইনে এসব চিহ্নিত নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় মাঠপর্যায়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ই এখন কার্যত গ্রেপ্তার এড়ানোর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দেখছে ‘অপরাধ পুনর্বাসন’ হিসেবে। তাদের মতে, অপরাধীদের রাজনীতিতে ফেরালে সহিংসতা বাড়বে, প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
একই সঙ্গে সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা উঠেছে। আইন অনুযায়ী চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে, আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে বিএনপির বহিস্কৃত ও পুনর্বহালপ্রাপ্ত চার হাজার নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জন্য ইউনুস সরকারের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছে।
রাজনীতি যদি অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে, তবে নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব নয়—বরং সন্ত্রাসের বৈধতা হয়ে দাঁড়ায়। এখন প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্র কি আইনের পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি ভোটের অঙ্কে অপরাধকে আবার বৈধতা দেবে?