দিনপত্র ডেস্ক রিপোর্ট :: নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ততই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে অঘোষিত সংহতি এখন আর গোপন নেই। শেরপুরে এক জামায়াত নেতার নিহত হওয়ার ঘটনার পর সেই সংহতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, যা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগেই সেনাবাহিনীর পেট্রোল টিমের প্রায় অর্ধেক প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক চাপের মুখে বিচার বিভাগ নিজেদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে—এমন আলোচনা চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অপরদিকে মাঠপর্যায়ে পুলিশের ভূমিকা অনেকটাই নিস্ক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শূন্যতা আগামী দিনগুলোতে বড় ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার যদি সংস্কার বাস্তবায়নের অজুহাতে নির্বাচনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্বিত করে, তবে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে গেলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। দলটির ভেতরে ভোট বর্জনের আহ্বান নতুন আঙ্গিকে আসতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। লক্ষ্য একটাই—ভোটার উপস্থিতি কমানো এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচন যদি বিতর্কিত হয়ে পড়ে, তবে চলতি বছরের মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামার নীরব প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
এদিকে সেনাবাহিনীর ভেতরে চরম অস্থিরতার খবরও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাড়ছে হতাশা। নির্বাচনী মাঠে দলটির আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে জামায়াতের অবস্থান।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একাধিক অডিও ক্লিপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জামায়াতের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এরই মধ্যে জামায়াত সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতের শীর্ষ মহল। বিশ্লেষকরা এটিকে বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনী মাঠে এর প্রভাবও স্পষ্ট। অনেক হেভিওয়েট বিএনপি প্রার্থী হঠাৎ করেই প্রচারণায় অর্থ ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই বলছেন, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখতে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তারা।
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সহিংসতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আন্তর্জাতিক চাপ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার এই বাস্তবতায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে দিতে পারছেন না অভিজ্ঞ মহল।
রাজনীতির মাঠে এখন ঘুরছে একটাই শব্দ—
নির্বাচন নয়, দেশ দাঁড়িয়ে আছে এক অজানা বিস্ফোরণের মুখে।