মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নাসিমুল গনি,নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নাসিমুল গনির নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। অতীতে আন্তর্জাতিক সংগঠন হিজবুত তাহরীর-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় তার এই নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। রেওয়াজ অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ সচিবই মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

*অতীত ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট*

চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর অবসর থেকে ফিরিয়ে এনে নাসিমুল গনিকে জ্যেষ্ঠ সচিব পদমর্যাদায় দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর তাকে স্বরাষ্ট্র সচিব করা হয়।

এর আগে তিনি জননিরাপত্তা সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন।

*বিতর্ক ও অভিযোগ*

নাসিমুল গনির বিরুদ্ধে অতীতে আন্তর্জাতিক সংগঠন হিজবুত তাহরীর-এর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হিসেবে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। জঙ্গি সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়।
এছাড়া তিনি একসময় বিএনপি নেতা জমির উদ্দিন সরকারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, নতুন সরকার গঠনের পর হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে—এমন একাধিক ব্যক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদটি প্রশাসনের সর্বোচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলোর একটি। ফলে এ পদে নিয়োগ ঘিরে অতীতের অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।