নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাম এখন সর্বাধিক আলোচিত,ড. মুহাম্মদ ইউনুস। একসময় যিনি “দরিদ্রের বন্ধু” হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ছিলেন, আজ তিনি দেশের ভেতরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। কেউ তাঁকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ হিসেবে সম্মান দেন, আবার অনেকেই তাঁকে দেখছেন “অবৈধ দখলদার” হিসেবেযিনি দরিদ্রের নাম ভাঙিয়ে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এবং বর্তমানে দেশের ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করছেন।
ড. ইউনুসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন এক অনিশ্চিত সময় অতিক্রম করছে। তাঁর শাসনামলে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, দারিদ্র্যের হার বেড়েছে, মধ্যবিত্ত শ্রেণি সংকটে পড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান যতই সুন্দর করে উপস্থাপন করা হোক না কেন, বাস্তবতা হলো মানুষ আজ দারিদ্র্য থেকে হতদারিদ্রতার দিকে ঠেলে যাচ্ছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে, আর জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী।
অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী হলেও, ড. ইউনুসের নীতি বাস্তবে প্রমাণ করেছে যে তাত্ত্বিক সাফল্য আর বাস্তব শাসন এক নয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত “গ্রামীণ মডেল” একসময় দরিদ্রের মুক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ঋণের কিস্তির বোঝা, সুদের জালে জড়িয়ে বহু পরিবার পথে বসেছে। একসময়ের “দরিদ্র-বান্ধব” ধারণা আজ অনেকের কাছে “দরিদ্র-বিনাশী” বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।
অর্থনৈতিক ব্যর্থতার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতাও বেড়েছে বহুগুণে। সমাজে বিভাজন, প্রশাসনে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সবকিছুর ছাপ দেখা যাচ্ছে তাঁর নেতৃত্বের সময়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজের অবস্থান শক্ত করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি প্রভাব বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক ভারসাম্য উভয়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বাংলাদেশের জনগণ যে শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা করেছিল, তার বিপরীতে আজ তারা দেখছে অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তব চিত্র। দেশের প্রান্তিক মানুষ, শ্রমজীবী শ্রেণি ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপদে। এই বাস্তবতায় অনেকে মনে করেন ড. ইউনুস তাঁর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষায় যতটা সফল, ততটা ব্যর্থ হয়েছেন দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে।
ইতিহাসের আদালত একদিন বিচার করবে ড. মুহাম্মদ ইউনুস সত্যিই দরিদ্রের বন্ধু ছিলেন, না কি দরিদ্রের নামেই নিজের প্রভাব বিস্তারের পথ তৈরি করেছিলেন। আজকের বাংলাদেশে তিনি এক প্রভাবশালী শাসক, কিন্তু জনগণের মনে তাঁর অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। দেশের স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জাতি এখন জানতে চায়,একজন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ কীভাবে “অবৈধ দখলদার” হিসেবে জাতির উপর আধিপত্য বিস্তার করলেন।